বিচারপতি সিনহা অধ্যায় শেষ?

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ২০ দিনের ছুটি নিয়ে কানাডার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। এই কুড়ি দিনে প্রধান বিচারপতি কানাডা এবং জাপান সফর করবেন। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর দেশে ফেরার কথা। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, কানাডা থেকে ফিরে প্রধান বিচারপতি এক মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যাবেন। অক্টোবরের ২ অথবা ৩ তারিখ তাঁর যুক্তরাষ্ট্র যাবার কথা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরেই তিনি ভারত এবং যুক্তরাজ্য সফরে যাবেন। এই সফরটি নভেম্বরের ২ অথবা ৩ তারিখ শুরু হয়ে শেষ হবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে। ১৪ ডিসেম্বর থেকে সুপ্রিম কোর্ট শীতকালীন ছুটিতে যাচ্ছে। অর্থাৎ এ বছর প্রধান বিচারপতি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে বসার সম্ভাবনা তাঁর খুবই কম। ইতিমধ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ‘ সময়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বিচারপতি সিনহা রাষ্ট্রপতির কাছে যে ছুটির আবেদন করেছেন, তাতে ২০ দিনের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত এই ছুটি এবছর পুরোটাই থাকবে। ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ বিচারপতি সিনহার অবসরে যাওয়ার কথা।

এখন পর্যন্ত জানুয়ারি মাসে বিচারপতি সিনহা কী করবেন তা অস্পষ্ট। বিচারপতি সিনহা এই সাড়ে তিনমাসে সরকারের মনোভাব দেখবেন। যদি তিনি দেখেন, এসময় তাঁকে নিয়ে আক্রমণাত্বক কথাবার্তা বন্ধ হয়েছে তাহলে তিনি ২৪ জানুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত ছুটি কাটাবেন। মেয়াদের শেষ সাতদিন তিনি প্রধান বিচারপতির আসনে বসবেন। প্রধান বিচারপতি হিসেবে তিনি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়ে অবসরে যেতে চান।

সরকারের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ছুটিতে যাবার আগে সরকারের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির একটি সমঝোতা হয়েছে। এই সমঝোতার অংশ হিসেবেই সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সমালোচনা এবং আক্রমণাত্বক বক্তব্য বন্ধ করেছে। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন সংস্থাগুলো যে তদন্ত শুরু করেছিল, সেগুলোর ব্যাপারেও ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রধান বিচারপতি দীর্ঘ ছুটিতে গেছেন। সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, দুপক্ষের মধ্যেই অবিশ্বাস প্রচণ্ড। প্রধান বিচারপতি মনে করছেন, ছুটিকালীন সময় তাঁর বিরুদ্ধে ‘কিছু একটা করা হতে পারে। সে কারণেই তিনি একেবারে ছুটি নেননি। অন্যদিকে সরকার চাইছে ছুটির মধ্যে দিয়েই তিনি মেয়াদ শেষ করুন। পুরো বিষয়টি এখন নির্ভর করছে, ছুটিকালীন সময়ে প্রধান বিচারপতি এবং সরকারের আচরণের ওপর। বিদেশে যাবার আগে, প্রধান বিচারপতি সরকারের একজন উপদেষ্টাকে কথা দিয়েছেন, বিদেশে তিনি কোনো সেমিনারের বা সভায় বক্তব্য রাখবেন না। সরকারের দায়িত্বশীল একজন মন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রধান বিচারপতি বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের দালিলিক প্রমাণ সরকারের কাছে আছে। এই সব প্রমাণ দিয়েই তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া সম্ভব। কিন্তু সরকার নমনীয় পথেই যেতে চাইছে।‘

প্রধান বিচারপতি হিসেবে সিনহাকে আর বেঞ্চে দেখা যাবে কিনা তা নির্ভর করছে আগামী তিন মাসে দুপক্ষের সমঝোতা কতটা অটুট থাকে তার ওপর।