রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমারের নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় দুই লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা। এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পাশপাশি খাবার, বিশুদ্ধ পানিসহ নূন্যতম চাহিদার যোগান দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও মিয়ানমারে অধিকারের জন্য সোচ্চার প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হয়েছে প্রশংসিত।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের এক কোটি শরণার্থী পাশ্ববর্তী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। বাংলাদেশ মানুষ তাই শরণার্থীদের দু:খ বোঝে। প্রধানমন্ত্রীও এর বাইরে নন। মিয়ানমারের সরকারের রোহিঙ্গা নিধনে বাড়ি ঘর ছেড়ে প্রাণ নিয়ে বাংলাদেশে আসা মানুষগুলোকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে চরম মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন সরকার। রোহিঙ্গাদের জন্য ভারত তার সীমান্ত বন্ধ করে দিলেও বাংলাদেশে ঢুকছে লাখো রোহিঙ্গা।

একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয় ও মিয়ানমারে নিরাপত্তার জন্য বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে এসেছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি। বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গাদের দেখে গেলেন তুরস্কের ফাস্টলেডি এমিনি এরদোয়ান। আরও অনেক দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা বাংলাদেশে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। অনেক দেশের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করছেন। খোঁজ খবর নিচ্ছেন রোহিঙ্গা পরিস্থিতির। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তিরাও রোহিঙ্গা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশাংসা করছেন এবং সহযোগিতার কথা বলছেন। রোহিঙ্গাদের আবাস, খাদ্য ও নিরাপত্তা দিয়ে এক অর্থে মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের পর্যায়ে আছেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের সাধ্য সীমিত। বিপুল জনগোষ্ঠীর এই দেশে হঠাৎ করেই লাখ লাখ রোহিঙ্গা চলে আসায় খাদ্য সংকট সহ বিভিন্ন সংকট দেখা দেবে বিষয়টি স্বাভাবিক। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রস্তুতি থাকা জরুরি ছিল। অন্তত বিদেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা এসে চাহিদা সম্পর্কে জানতে চাইলে, তা জানানোর প্রস্তুতি থাকা তো প্রয়োজন। তুরস্কের ফাস্টলেডি যখন বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন চাহিদা সম্পর্কে জানতে চাইলেন তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ছিল সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত। খাদ্য চাহিদা ও অন্যন্য চাহিদা সম্পর্কে কোনো হিসাব নিকাশই করেনি তারা।

এদিকে পূর্বের বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১০ শতাংশ থাকে জঙ্গিবাদের সমর্থক বা সম্পৃক্ত। এরা পরবর্তীতে দেশের ভিন্নমতালম্বী মৌলবাদিদের সঙ্গে ভিড়ে। আবার এদের কেউ কেউ মাদক, অস্ত্রসহ বিভিন্ন পাচারে যুক্ত হয়ে পড়ে। এই কারণে হঠাৎ চলে আসা বিপুল রোহিঙ্গাদের মধ্যে অন্তত ৫ থেকে ৭ হাজার উগ্রপন্থীও আছে বলে জানিয়েছে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা। এরা দেশের নিরাপত্তার জন্য যেন হুমকি না হয়ে দাঁড়ায় এজন্য গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। মানবিকতার পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তার বিষয়েও সর্বোচ্চ সচেতন প্রধানমন্ত্রী।