“শেখ হাসিনা” আজও কি- শুধুই “বঙ্গবন্ধুর কন্যা”?

মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব

পিতা মুজিবের অবর্তমানে যে সকল নেতৃবৃন্দ  ‘বাংলাদেশ’কে নেতৃত্ব দিয়েছেন তন্মধ্যে বঙ্গ-কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা শুধু অন্যতমই নন বরং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ।

আমরা প্রায়শই বলি ‘শেখ হাসিনা’ হলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা-পিতার স্নেহের পরম রক্ত।

”শেখ হাসিনা” কি আজো শুধুই বঙ্গবন্ধু কন্যা নাকি সত্যিকার স্ব-মহিমায় উজ্জ্বল আলোকিত এবং আদর্শ নেতৃত্বগুণে গুণবতী অনন্যা?

এই শেখ হাসিনাই তাঁর অসীম দূরদর্শিতা ও নিজস্ব প্রখর বিচক্ষণতার সাহায্যে তৎকালীন সময়ে দেশের অভ্যন্তরে বিরাজমান সকল প্রকার বৈষম্য দূরীভূত করে বাংলাদেশের আপামর রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের ইতিবাচক তথা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন।

আর আমি নিতান্ত ভক্তি শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতাভরে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে কখনোই ভালো না বেসে বাঁচতে পারিনা।

আমি মনে করি আপনারও শেখ হাসিনাকে একজন নেতা হিসেবে ভীষণ ভালোবাসা উচিত এবং তাঁর নেতৃত্বের উপর বিশ্বাস এবং আস্থা রেখে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।

এবার আসুন মূল কথায় আপনি কেনো শেখ হাসিনাকে ভালোবাসবেন?

▪️আপনি কি পরিবার পরিজন হারিয়েছেন ?

▪️আপনি কি স্বজন হারানোর বেদনা বোঝেন ?

▪️আপনি কি অন্যের কোনো কষ্টে কভু কাঁদেন ?

▪️আপনি কি কারো আর্তনাদ উপলব্ধি করেন ?

▪️আপনি কি একই দিনে আপনার পরিবারের ১৬ জন সদস্য হারিয়েছেন ?

▪️আপনি কি কখনো পরিবার পরিজন হারিয়ে এমনকি তাঁদের লাশটাও এক নজর না দেখে দীর্ঘ ছয়টি বছর আপনার মাতৃভূমির বাহিরে ছিলেন ?

▪️বলুন তো- আপনি শেখ হাসিনার জায়গায় থেকে এই বাংলাদেশের জন্য কি করতে পারতেন?

▪️আপনি কি অতি দ্রুতই একই সময়ে এতগুলো স্বজন হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে ১৬ কোটি ভাগ্যহত বাঙালির একজন স্বার্থহীন সাহসী নেতা হতে পারতেন?

হয়তো আপনার ভাবনার উত্তরটি–“না”!

কিন্তু আপনি কি জানেন-

এই বিশ্বে কেবলমাত্র একজন নেতাই আছেন যিনি পিতা পরিজন সব হারিয়েও প্রবল দৃপ্ত মনোবলে এবং প্রচন্ড সাহসে একটি বুভুক্ষু দেশ বা দিশেহারা জাতিকে সর্বত্র সম্মুখ থেকে নেতৃত্ব দিয়ে এ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে বাঁচতে নিরন্তর সহায়তা করেছেন এবং আজো করেই যাচ্ছেন।

সেই চিরদুঃখী মহীয়সী সাহসী নেতাটি আর কেউ নন তিনিই হলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা বাঙালির বঙ্গ-কন্যা আমাদের দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার ইতিহাস ৭৫ পরবর্তী একবিংশ শতকের অভিযাত্রায় তিনি কিভাবে বাঙালি জাতির কাণ্ডারী হয়েছেন তার ইতিহাস।

বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ে বাঙালি জাতির আলোর দিশারী হওয়ার ইতিহাস।

অসাম্প্রদায়িকতা উদার প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক বিজ্ঞানমনস্ক জীবনদৃষ্টি তাকে করে তুলেছে এক আধুনিক, অগ্রসর রাষ্ট্রনায়কে।

একবিংশ শতাব্দীর অভিযাত্রায় দিন বদল ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বার্থহীন গর্বিত কাণ্ডারী একমাত্র তিনিই।

১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্টের পর-

▪️১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে শেখ হাসিনা দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। আর সে বছরেরই ১৭ মে ৬ বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটানোর মধ্যদিয়ে দিশাহীন বাঙালি জাতির পূনরজন্ম ঘটে।

তিনি তাঁর সাহসী নেতৃত্বগুণের পরম স্পর্শে সামগ্রিকভাবে ভেঙেপড়া বাংলাদেশের দুর্বল অবকাঠামো এবং নিমজ্জিত আর্থ সামাজিক অবস্থার যৌক্তিক উন্নয়ন ঘটানোর মাধ্যমেই দিশাহীন বাঙালির তীব্র আশা আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

▪️১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত হন।

▪️১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

▪️১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের পরে তিনি পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন।১৯৯৬ সালে এক ঐতিহাসিক নির্বাচনের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং সে বছরই ২৩শে জুন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তিনি ক্ষমতা চলাকালীন সময়ে উল্লেখ্য যে কাজগুলো করেছেন-

▪️যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বঙ্গবন্ধুর আত্ম-স্বীকৃত খুনীদের বিচার, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে একজন গর্ভবতী মা তার গর্ভাবস্থার প্রথম দিন থেকে সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও দিকনির্দেশনা দেয়া হয়,একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের মাধ্যমে জাতীয় জীবনের বহুক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।

▪️জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশনেও তিনি দু’টি পুরস্কারে ভূষিত হন।

-জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’।

▪️এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে যুগান্তকারী উদ্যোগের জন্য ‘আইসিটি টেকসই’ উন্নয়ন পুরস্কার লাভ করেন শেখ হাসিনা।

▪️জাতিসংঘের ৭১তম’ অধিবেশনে তিনি নারীর ক্ষমতায়-নে তার অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ’ অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।

▪️এ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন হিসাবে জাতিসংঘ উইমেন স্বীকৃতি অর্জন করেন।

▪️নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী সালিসি আদালতের রায়ে বঙ্গোপসাগরের বিরোধপূর্ণ ২৫ হাজার ৬০২ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা বাংলাদেশ পেয়েছে। বাংলাদেশের এ বিজয় শেখ হাসিনার বিজয়।

▪️বাংলাদেশে এই প্রথম রামপালে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যা শেখ হাসিনার একটি সাহসী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

▪️দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্পের কর্মযজ্ঞের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত পথ ৩৮ মিনিটেই অতিক্রম করা সম্ভব হবে।

▪️বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গা এলাকায়- কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে।

▪️বহু প্রতীক্ষার পর-অবশেষে স্বপ্ন পূরণ। স্বপ্ন এখন সত্যি, যাত্রা শুরু সফ্টওয়্যার টেকনোলজি পার্কের। দেশের প্রথম সফ্টওয়্যার টেকনোলজি পার্কের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

▪️ভারা করা স্যাটেলাইটের পরিবর্তে নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১-এর নির্মাণ কাজ শেষ করে এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এই স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হবে, যা সফলভাবে মহাকাশে গেলে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হবে বাংলাদেশ।

▪️বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের তীর ধরে নির্মাণ করা হয়েছে পাকা সড়ক। এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ।

বিনোদনের অন্যান্য সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা না করে শুধু এই রাস্তা দিয়েই বিদেশি পর্যটক টেনে আনা সম্ভব!

▪️নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতু নির্মাণ, যা এখন স্বপ্ন নয় দৃশমান।

▪️জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মুসলিম দেশগুলোকে ৬ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বাঙালি হিসেবে চিহ্নিত করার যে রাষ্ট্রীয় প্রোপাগান্ডা মিয়ানমার চালাচ্ছে তা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

এই নিয়ে শেখ হাসিনা ১৪ বার জাতিসংঘে ভাষণ দিলেন৷

▪️তার নিপুণ দক্ষতা ও নিদারুণ নেতৃত্বগুণেই তিনি আজ সার্বজনীন নেতা সীমাহীন মহানুভবতায় আজ তিনিই বিশ্ব মানবতার মা (Mother Of Humanity) খেতাবে ভূষিত হন।

▪️রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং সাফল্যের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে তিনি ‘সাউথ সাউথ’ ও ‘সেরেস পদক’ সহ অন্যান্য পুরস্কারে ভূষিত হন।

▪️বাংলাদেশে নারী ও শিশুর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য ইউনেস্কো থেকে ‘ট্রি অব পিস’ উপাধিতে সিক্ত হন।

এই সবগুলো পুরস্কার নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৮টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন।

▪️২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি সপ্তম জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের নেতা নির্বাচিত হন।

▪️২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি বেঁচে গেলেও ভয়ঙ্কর বিস্ফরনের বিকট শব্দে তাঁর একটি কানে সমস্যা হয় তা তিনি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন, ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং প্রায় পাঁচশ’ নেতাকর্মী আহত হন।

▪️২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশী আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে এবং এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

▪️পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মত দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশকে শুধু এগিয়ে নিচ্ছেন তা নয়, বিশ্ব দরবারে সুপরিচিত করছেন ১৬কোটি মানুষের এই গর্বের দেশকে।

▪️সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর শ্রেষ্ঠ কন্যা হিসেবে তিনি যত না প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, তার চেয়েও বেশি জাতির কাছে একজন মা হিসেবে নিজেকে অধিষ্ঠিত করেছেন।

তিনি শুধু একজন জাতীয় নেতাই নন, তিনি আজ তৃতীয় বিশ্বের একজন বিচক্ষণ বিশ্বনেতা হিসেবে এবার বিশ্ব মানবতার “মা” হিসাবে অবতীর্ণ হয়েছেন তাঁর স্বীয় নতুন ভূমিকায়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাও তাঁর সেই অঙ্গীকার ও দৃঢ়তা নিয়েই দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন যা বিশ্বের দরবারে দেশের ভাব-মর্যাদা অক্ষুণ্ণ এবং আরও উজ্জ্বল করেছে।

▪️তাই পুরো জাতির কাছে আমার প্রশ্ন?

শেখ হাসিনা কেন এ যাবত কালের শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র-নায়ক বিবেচিত হবেন না?

এবং নেতা হিসেবে শেখ হাসিনাকে আপনি কেন’ই বা ভালোবাসবেন না?

মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব সভাপতি, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ।

জয়তু-দেশরত্ন শেখ হাসিনা তোমাকে কভু ভালো না বেসে পারিনা। জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু