বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দাবি ‘র‌্যাগিং’ এর মত অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করার

স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশ করা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনে একটি সুন্দর ও কাঙ্ক্ষিত অধ্যায়। অনেক স্বপ্ন ও আশা নিয়ে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে জীবন গড়তে। পরিবারের হাল ধরতে হবে, বড় মানুষ হতে হবে, সফল হতে হবে, এরকম নানা স্বপ্ন থাকে তাদের চোখে।

কিন্তু তারা জানে না তাদের সেই স্বপ্নগুলোয় প্রথম বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সিনিয়র ভাই-বোনেরাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখা নতুন শিক্ষার্থীদের প্রথমদিকে পথে-ঘাটে চলতে-ফিরতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় মুখোমুখি হতে হয় ভয়াবহ র‍্যাগিংয়ের, যা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের পরেই এক নেতিবাচক অভিজ্ঞতার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় তাদের।কখনো দলবদ্ধভাবে কিংবা কখনো দু-একজন সিনিয়র মিলে জুনিয়রদেরকে নানারকম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে থাকেন।

র‌্যাগিং শব্দের অর্থ পরিচিত হওয়া, তিরস্কার করা অথবা আবেগে কিছু করা ইত্যাদি। আরও ভালো ভাবে বললে, র‍্যাগিং শব্দের প্রচলিত অর্থ হচ্ছে ‘পরিচয় পর্ব’। জানতে চাইলাম বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের কৃতি শিক্ষার্থীদের কাছে ?

“র‍্যাগিং”

আপনি যখন কোন মফস্বল এলাকা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন। যেখানে আপনার মস্তিষ্কে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানে –
মা ও মাতৃভূমির ন্যায় সম্মানের ও অর্জনের।
আর সর্বোচ্চ সম্মানের প্রতিষ্ঠানে জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনালগ্নেই একজন শ্রদ্ধেয় বড় ভাই ও বোনেরা আপনার সাথে একটা সখ্যতা গড়ে তোলার নামে এইসব অপসংস্কৃতি মূলক কর্মকান্ড_

১! সাধারণত আপনার সাথে নোংরামি আচরণ!
২!অশ্লীল কথাবার্তা বলা!
৩!অশ্লীল অঙ্গভঙ্গী প্রদর্শন করা কিংবা শুনতে চাওয়া!!
৪!শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা !
৫!সবার সামনে লাঞ্চিত করা !

শিক্ষার্থীর নিকট এমন অপসংস্কৃতি মূলক আচরণ কি কোন সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য ???

আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না একটা শিক্ষার্থীর প্রাথমিক জীবনে অন্ধকার ও দুর্বিষহ নেমে আসা শুধু তাই নয় তাদের মনে একটা আতঙ্ক সৃষ্টি এমনকি মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা কোন সিনিয়র শিক্ষার্থীর কাছে কি কখনো মানানসই????

পরিশেষে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে যে অপসংস্কৃতির প্রভাবে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার চরম অবক্ষয় দেখায়-
যেখানে ভার্সিটিতে পড়া গৌরবের বিষয়, সেখানে কিছু শয়তানরুপী সিনিয়র এর ভাবমূর্তি নষ্ট করে, তাই আমাদেরকে এ অপসংস্কৃতির চর্চা থেকে বেরিয়ে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে। আর এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। সর্বোপরি এমন অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধের আহ্বান রাখছি।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে_ মোঃ মাহমুদুল হাসান সবুজ।