শিক্ষাবিদ আবম ফারুক স্যার সম্পর্কে লিখেছেন আকাশ আনোয়ার।।

বিডিনিউজ এক্সপ্রেসঃ শিক্ষাবিদ, আবম ফারুক বা এবিএম ফারুক। যে নামেই ডাকি না কেন সত্য আর সুন্দরে গড়া মানুষটি নিয়মনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশের কল্যাণে সদা জাগ্রত এক বিজ্ঞানী। শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ফারুক বাংলাদেশের শিশুখাদ্যের ঝুঁকি এবং নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। তিনি প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলে তুলে ধরেছিলেন বাজারে প্যাকেটজাত পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি আছে। সমালোচনা শুরু হয়েছিল। টনক নড়েছিল নীতিনির্ধারকদের। শিশুখাদ্যে এতোটুকু বৈষম্য চাইনা বলেই কোন সুস্থ মানুষ দুধের মত খাদ্যে কোন রকম অব্যবস্থা মেনে নিতে পারেন না। হয়তো আর্থিক ঝুঁকির কারণে তাঁর এ গবেষণা নিয়ে বাংলাদেশের কর্পোরেট মহল চাইল না কোন লোকসান গুণতে। সে সময়ে গণমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে নানা রকম আক্রমণাত্মক বক্তব্য ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ এর সংবাদ দেখে কষ্ট হয়েছে।

যে মানুষ শুধু নিজের প্রচেষ্টায় একটি জাতিকে মুক্তির স্বাদ দেবার লক্ষ্যে সমালোচনা করে, ভুল গুলো দেখিয়ে দেয় তিনি হবেন সম্মানিত। প্রবাসে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তাই দেখেছি। এই সেদিনও অস্ট্রেলিয়ার শিশুখাদ্য নির্মাণ কোম্পানি বনাম চীনের শিশুখাদ্য কোম্পানির দীর্ঘ টানাপড়েন হয়ে গেল। Bellamy’s নামের এ শিশুখাদ্য অধিকার করে নিলো চাইনিজ লোভী মুনাফাভোগীদের বাজার। শেয়ার মার্কেট কোটি কোটি ডলারের উত্থান পতনে দেখিয়ে দিলো তুমি কে হে ভাই শিশু খাদ্যে বিষাক্ত পদার্থ মেশাও? অধিক মুনাফা একটি শিশুর ক্ষেত্রে মেনে নেবো না। একটি শিশুর নির্ভেজাল খাবার চাই। চায়নার মা বাবা’রা বয়কট করল। চায়নার দুধ খাওয়াবে না নিজের প্রিয় সন্তানকে। তারা দলে দলে অস্ট্রেলিয়াবাসীকে অনুরোধ করল তার শিশুটির জন্য যেন Bellamy’s এর কিছু কৌটো বিমানে বহন করা হয়। দ্বিগুণ মূল্যে কিনতে তাদের আপত্তি নেই।

মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার Woolworths, Coles সহ নামি দামী সকল শিশুখাদ্য বিক্রেতার শিশুখাদ্যের শেলফ খালি হয়ে গেল। এয়ারলাইন্স বাঁধা দিতে পারলো না মানুষের যুক্তির দাবীর কাছে। অবশেষে অস্ট্রেলিয়া সরকার এবং চায়না সরকারকে এ বিষয়ে ফয়সালা করতে হয়েছে। অথচ একই কারণে বাংলাদেশে অধ্যাপক আবম ফারুককে শুনতে হয়েছে আক্রমণাত্মক বক্তব্য ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ। না ফারুক ভাই, এ দলে শুধু আপনি একা নন। এ দেশের অসংখ্য মুক্তিকামী মানুষ এখনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, যখন মানুষ আশা হারিয়ে ফেলে তখনো আপনার মত এই দেশপ্রেমী মানুষগুলোই আমাদের আশা জাগায়, স্বপ্ন দেখায়।

যাই হোক সুখের কথা যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলের আক্রমণাত্মক বক্তব্য ও আচরণকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে সে সময়ে নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬ জন শিক্ষক। এ ছাড়া হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক বাজারের দুধের নমুনা যথাযথভাবে পরীক্ষা করে জনমনের উদ্বেগ নিরসন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তাঁরা। তাঁর মত মানুষের আজ বড় অভাব দেখি দেশে।

আজ দেশে আওয়ামীলীগ এর সম্মেলন বসবে ঢাকায়। বঙ্গবন্ধু কন্যা, বাংলাদেশের মুক্তির প্রতীক শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত উন্নত বাংলাদেশের লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে যে তারুণ্যের নেতৃত্ব, সেই নতুন নেতৃত্বের সন্ধানে সম্মেলন বসছে। আমি প্রত্যাশা করবো দেশের প্রতি অসীম ভালোবাসার মানুষটিকেও যেন নির্বাচন করা হয়। প্রত্যাশা করবো এ সম্মেলনকে ঘিরে যেন সাধারণের চলাচলে কোন বিঘ্ন না ঘটে, কোন রোগী যেন যানজটে কষ্ট না পান বা মারা না যান। একই সাথে প্রত্যাশা করবো ফারুক ভাইয়ের মত মহৎপ্রাণ মানুষেরা যেন আওয়ামীলীগের হাল ধরেন, নইলে বাংলাদেশ এর অস্তিত্ব হবে বিপন্ন।

২০১৮ সালের নভেম্বর ডিসেম্বর মাসের কথা। তিনি আমায় তাঁর ঢাকার বাসায় আমন্ত্রণ জানান। এর আগেও গিয়েছি তাঁর আমন্ত্রণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি তখন ফার্মেসি অনুষদের ডীন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার উন্নয়নে আলাপ হয়েছে সে সময়ে, নিয়ে গিয়েছিলেন ডীনদের মিটিং-এ। কিন্তু এবারে সম্পূর্ণ অন্য কারণে। ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালাতে। একই দিনে গিয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আরেফিন স্যারের বাসায়। চমৎকার একটা সময় কেটেছিল এ সময়ে গতবছর। তাঁরা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার পক্ষে বঙ্গবন্ধু পরিষদ থেকে মুদ্রিত এক ব্যাগ প্রচার পত্র দিয়েছিলেন আমাকে। আমি যেন সেগুলো বাংলাদেশে এবং অস্ট্রেলিয়ায় প্রচার করি। অফসেট কাগজে মুদ্রিত বলে ওজনে খুব ভারী ছিল। সাধারণত ডিপ্লোম্যাট ব্যাগে কনসুলেট অফিসের মাধ্যমে এসব তথ্যবহুল লিফলেট এক দেশ থেকে আর এক দেশে যায়। আমি নিয়ে এলাম। সিকিউরিটি অনুসন্ধানের সময়ে লাগেজে এতো লিফলেট দেখে এয়ারপোর্ট নিরাপত্তা কর্মীরা লাগেজ খুলে হতভম্ব হয়ে গেলেন। মনে হচ্ছিল সে সময়ের ছবি তুলে রাখি। নিরাপত্তার কারণে তুলিনি। সেদিনের সে লিফলেট আমি অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে গিয়েছিলাম কিছুটা ঢাকায়ও প্রচার করেছিলাম।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। আমি জানিনা এ জন্য ফারুক ভাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কোন উপহার পেয়েছেন কি না। তবে তিনি অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন, সে সময়ে আমি তাঁর কিছু সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। সে আলোচনায় তিনি তুলে ধরেছিলেন আমাদের মুক্তির মন্ত্র ‘জয় বাংলা’ শব্দটিকে। তিনি বাংলাদেশকে অগ্রগণ্য করেছিলেন। আসুন শুনে নেই তাঁর কিছু উচ্চারণ।

জয় বাংলা ! শুধু একটি স্লোগান নয়, জয় বাংলা মানেই বাংলাদেশ ! নেতৃত্বে চাই জয় বাংলাকে বুকে ধারণ করার মত মহৎ মানুষ, প্রফেসর আবম ফারুকের মত মানুষ। তবেই বিশ্বায়ন ঘটবে বাংলাদেশের।