জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯২১ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) বৃহস্পতিবার চলতি অর্থ বছরে পরিবহন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯২১ কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দিয়েছে। এনইসি চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রাজধানীর শের-এ-বাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠকের পর ব্রিফিংকালে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আরএডিপিতে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেশনের ১০৩টি প্রকল্পের বিপরীতে ৮ হাজার ২৭৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকার অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত করে আরএডিপি’র মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১ হাজার ১৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
তবে, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেশনের অর্থ ছাড়া আরএডিপি’র বরাদ্দ ১ লাখ ৯২ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা স্থানীয় উৎস এবং বাকী ৬২ হাজার কোটি টাকা বিদেশী উৎস থেকে এসেছে। মান্নান আরো বলেন, এই নিয়ে এখন আরএডিপি’র আওতায় মোট প্রকল্পের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪৬টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৯৭ বিনিয়োগ প্রকল্প, ১৪৩টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এবং জেডিসিএফ এর একটি প্রকল্প রয়েছে।
মান্নান বলেন, চলতি অর্থবছরে মূল এডিপি’র পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা এবং সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্প সহায়তা অংশটি থেকে ৯ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা কাটছাঁট করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের মতে, পরিবহন খাতে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা (২৪.৫৯%) বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরপর আছে স্বাস্থ্য পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাত ২৬ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা (১৩.৯১%), জ্বালানী খাত ৩২ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা (১২.৫৮%), শিক্ষা ও ধর্ম খাতে ২০ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা ১০.৫৯%), বিজ্ঞান ও আইসিটি খাতে ১৬ হাজার ৭৯১ কোটি (৮.৭০%), গ্রামীণ উন্নয়ন ও গ্রামীণ প্রতিষ্ঠান খাত ১৫ হাজার ৭৫৫ কোটি (৮.১৭%), স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার পরিকল্পনা খাত ১০ হাজার ১০৯ কোটি টাকা (৫.২৪%), কৃষি খাত ৬ হাজার ৬০৯ কোটি (৩.৩০%), পানি খাত ৬ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা (৩.৩০%) এবং জনপ্রশাসন খাতে ৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা (২.৬৭%)।
এনইসি সভায় চলতি অর্থবছরের এডিপি বাস্তবানের সর্বশেষ পরিসংখ্যান এবং গত অর্থবছরের (অর্থবছর- ১৯) এডিপি বাস্তবায়নের সঠিক পরিসংখ্যান সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
এই জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়-কালে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছিল ৩৭ দশমিক ২৬ শতাংশ, যার ব্যয় ছিল ৮০,১৪৩ দশমিক ০৬ কোটি টাকা। ২০১৯ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছিল ৯৪ দমমিক ৬৬ শতাংশ, যার ব্যয় ছিল ১,৬৭,১৮৬ কোটি টাকা।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এনইসি বৈঠকের শুরুতে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনা হয়। তিনি বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে আতঙ্কিত না হওয়ার পাশাপাশি এ ইস্যুতে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এডিপি-র সর্বোচ্চ ব্যবহারে কঠোর পরিশ্রমের জন্য প্রকল্প কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মীদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তাদের আরও কঠোর মাধ্যমে আরও আরএডিপি বরাদ্দকে দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগানোর নির্দেশনা দেন।
এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা প্রভাব ফেলবে এবং জাতীয় আয়ের ওপরও কিছুটা প্রভাব পড়বে।
চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে মান্নান বলেন, বিশ্বব্যাপী কোনো সরকারই অর্থ-ঘাটতিতে ভোগে না। ‘রাজস্ব সংগ্রহে ঘাটতি হলেও প্রকল্প বাস্তবয়নে কোনো সমস্যা হবে না।’
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মান্নান বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে লকডাউন কার্যকর করার মতো পরিস্থিতি এখনও সৃষ্টি হয়নি। ‘দেশের মানুষ এতে অভ্যস্ত নয়।’ তিনি বলেন, ‘কেনো লকডাউন হবে না, বরং কড়াকড়ি হতে পারে।’
পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বিভাগীয় পর্যায়ে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার সরঞ্জাম সরবরাহে কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সতর্ক হোন এবং সচেতন হন এবং এভাবে আপনার কাজ করুন।’
করোনা ভাইরাসকে মারাত্মক বৈশ্বিক সমস্যা অভিহিত করে পরিকল্পনামন্ত্রী জনগণকে অপ্রয়োজনীয় চলাচল কমিয়ে আনার এবং কারো করোনা ভাইরাসের নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ দেখা গেলে স্বেচ্ছা-কোয়ারান্টাইনে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
এক প্রশ্নকারীকে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সরকার সামগ্রিকভাবে তার কার্যক্রম বন্ধ করবে না।