করোনা মোকাবেলায় সার্ককে ১.৫ মিলিয়ন ডলার দেবে বাংলাদেশ

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সার্কের স্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধে প্রস্তাবিত তহবিলে বাংলাদেশ ১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বাসসকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দক্ষিণ এশিয়ায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় সার্ক দফতরকে এই তহবিল প্রদানের মৌখিক অনুমোদন দিয়েছেন।’
ভারত ইতোমধ্যেই এই তহবিলে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে নেপাল ও আফগানিস্তান ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার করে অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই তহবিলে মালদ্বীপ ২ লাখ মার্কিন ডলার আর ভূটান ১ লাখ মার্কিন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
পাকিস্তান ও শ্রীলংকা এখনো কোন অর্থ প্রদানের ঘোষণা দেয়নি।
মোমেন বলেন, ‘আমরা আশা করছি শ্রীলংকাও শিগগিরই অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিবে।’
তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সার্ক দফতর ও ভারত সরকারকে সার্কের স্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধ তহবিলে বাংলাদেশের ১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ দেয়ার প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়ে দিয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৫ মার্চ করোনা ভাইরাস মোকাবেলার উপর সার্ক নেতৃবৃন্দের ভিডিও সম্মেলনে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস মোকাবেলায় বিশেষ ভলান্টারি ফান্ড গঠনের প্রস্তাব দেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, ওই ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরামর্শ দেন যে, এই অঞ্চলের জনগণের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য সার্ক দাফতর আঞ্চলিক সহযোগিতার সমন্বয় করতে পারে।
মোমেন বলেন, বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি মোকাবেলায় একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, সার্কের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের মতো প্রোটোকলের জন্য বিভিন্ন তহবিল রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোন প্রোটোকল নেই। এবার আমরা এটা সৃষ্টি করেছি।’
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে এই স্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধে সার্ক তহবিল করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ব্যবহৃত হলেও পরে একে এই অঞ্চলের জনগণের অন্যান্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধে ব্যবহার করা হবে।
শনিবার পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৩ লাখ ৩ হাজার ১৮০ জনে। ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১১ হাজার জন মারা গেছে।
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যুর ও ২৪ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পক্ষান্তরে ভারতে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে ও ৩৪১ জন এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।