করোনা ভাইরাসের মতো ব্যাকটেরিয়াল মহামারি ঠেকাতে হসপিটাল ফার্মাসিস্ট থাকা প্রয়োজন।

লেখক : মো. আজিবুর রহমান (এম ফার্ম, এমবিএ, পিজিডি এইএম)।     

এন্টিবায়োটিক এর অপব্যবহারের ফলে করোনা ভাইরাসের মতো হতে পারে ব্যাকটেরিয়াল মহামারি।    বাংলাদেশে এন্টিবায়োটিক এর ব্যাবহার অনিয়ন্ত্রিত। যে কোনো ফার্মেসিতে গেলেই অনায়াসে পাওয়া জায় এন্টিবায়োটিক। বাবহারে নেই কনো সতর্কতা, জানানো হয়না কোন মাত্রায় কতদিন খেতে হবে ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার নির্দেশনা।অপ্রয়োজনে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে এন্টিবায়োটিক।গ্রামের গ্রাম্য ডাক্তারদের সর্ব রোগের ঔষধে পরিনত হয়েছে এন্টিবায়োটিক এর ব্যাবহার।

এই এন্টিবায়োটিক এর সঠিক ব্যাবহার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন হসপিটাল ফার্মাসিস্ট। প্রতিটি হাসপাতালে হসপিটাল গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট থাকা প্রয়োজন ফার্মাসিস্ট এন্টিবায়োটিক এর সঠিক ব্যাবহার নিশ্চিত করতে পারবে রুগীদের এন্টিবায়োটিক এর ব্যাবহার সম্পর্কে বিস্থারিত ধারণা দিবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জানাবে তখনই নিশ্চিত হবে এন্টিবায়োটিক এর সঠিক ব্যাবহার। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও হসপিটাল ফার্মাসিস্ট বাধ্যতামূলক করতে হবে। এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরো কঠোর হতে হবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এন্টিবায়োটিক ব্যাবহার হচ্ছে তো সমস্যা কোথায়, অসুস্থ হলেতো ওষুধ খেতেই হবে।হা ওষুধ খাবেন তবে অসুস্থ হলে সঠিক রোগ নির্ণয় করে সঠিক ওষুধ সঠিক মাত্রায় থেতে হবে।

আমাদের একটু ঠাণ্ডা একটু জ্বর একটু হাঁচি কাশি হলেই ডাক্তারের পরামর্শ ছারাই ঔষধের দোকানে গিয়ে এন্টিবায়োটিক চাই, ওষুধের দোকানদার এন্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন তাহার নিজের ইচ্ছে মতো। কিন্তু এসব বেশির ভাগ সাধারণ রোগের জন্য এন্টিবায়োটিক খাওয়ায়র প্রয়োজন হয়না। এসব বেশির ভাগ অসুখ ওষুধ ছারাই ভালো হয়ে যায়।

অপ্রয়োজনে এন্টিবায়োটিক ব্যাবহার করলে ও সঠিক রোগের জন্য সঠিক এন্টিবায়োটিক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ কোরতে না পারলে জীবাণু না মরে আরও শক্তিশালী হয়ে বাসা বাধে শরীরে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে জীবাণু না মরলে না মরবে আরও শক্তিশালী কিভাবে হবে! হা এই প্রশ্নের উত্তর জানলেই বুঝতে পাড়বেন ব্যাকটেরিয়া কিভাবে করোনা ভাইরাসের মতো মহামারি ডেকে আনতে পারে পৃথিবীতে।

কারন আমাদের শরীরে রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর জীবাণুর উপস্থিতিতে বিভিন্ন অসুখ হয়ে থাকে তাই সুস্থ হওয়ার জন্য ক্ষতিকর জীবাণু মারা প্রয়োজন হয়ে পরে, তাই জীবাণু (ব্যাকটেরিয়া) মারার জন্য  এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয় কিন্তু সঠিক জীবাণু মারার জন্য সঠিক এন্টিবায়োটিক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে না পারলে জীবাণু মারা যায়না বরং জীবাণু ওই এন্টিবায়োটিকটাকে জিবানুর জন্য ক্ষতিকর হিসেবে চিনে ফেলে এবং জীবাণুর শরীরে ওই এন্টিবায়োটিক এর বিরুদ্ধে স্বাভাবিক ভাবেই প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। যেকারনে পরবর্তীতে ওই সঠিক ঔষধ সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করলেও আর জীবাণু মারা যায়না। এটা প্রতিটি প্রাণীর একটি সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক প্রদ্যোত প্রতিকূল পরিবেশে সারভাইভাল (বেচে থাকার) ক্ষমতা।

বুঝতে আরেকটু সহজ হবে যদি বুজতে পারেন ভ্যাক্সিন মানুষের শরীরে কিভাবে কাজ করে বুজতে পারলে। ভাইরাস মারার সরাসরি কোনো এন্টিবায়োটিক বা ঔষধ আবিস্কার হয়নি কিন্তু প্রাণীর শরীরের এই  নিজস্ব সারভাইভাল বেচে থাকার) ক্ষমতা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে জাগ্রত করা হয় ভ্যাক্সিন এর মাধ্যমে। এখন জানাযাক ভ্যাক্সিন কি এবং কিভাবে মানুষের শবরীরে কাজ অরে।

ভ্যাক্সিন হচ্ছে যে ভাইরাসের আমাদের শরীরে অসুখ সৃষ্টি করে সে ভাইরাস এর অকার্যকর অবস্থা অথবা ওই ভাইরাসেরই টক্সিন অথবা ওই ভাইরাসের বাহ্যিক প্রোটিনের। ভাইরাসেরই টক্সিন অথবা ওই ভাইরাসের বাহ্যিক প্রোটিনের মাধ্যমে ভ্যাক্সিন তৈরি করা হয়। তার মানে হচ্ছে শরীরের ভিতরের জীবিত ভাইরাস মারার জন্য ঐ ভাইরাসকেই মৃত অথবা অকার্যকর অবস্থায় আমাদের শরীরে প্রবেশ করানো হয় যাতে আমাদের শরীর ঐ ক্ষতিকর জীবাণুটারকে চিনতে পারে এবং ঐ ভাইরাসের বিরুধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারে।তাই ভ্যাক্সিন নিদিষ্ট সময়ের ব্যাবধানে তিনটি মাত্রা (ডোজ) এর মাধ্যমে শরীরে ইঞ্জেক্সনের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয়। তখন আমাদের শরীর ওই অপরিচিত ক্ষতিকর জীবাণুটার বিরুদ্ধে এন্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারে।পরবর্তীতে ঐ জীবিত ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে এন্টিবডি ভাইরাস মেরে ফেলে।

ঠিক এই প্রক্রিয়ায় অন্যান্য জীবাণু অপর্যাপ্ত মাত্রায় ও অপ্রয়োজনে এন্টিবায়োটিক এর ব্যাবহারে ব্যাকটেরিয়া এন্টিবায়োটিক গুলোকে চিনে ফেলছে প্রতিনিয়ত এবং ব্যাকটেরিয়ার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা এন্টিবডি তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত।চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ সেবন করে ও অপ্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিক সেবন করে ব্যাকটেরিয়ার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা এন্টিবডি তৈরি করতে সাহায্য করছি আমরা নিজেরাই।

এন্টিবায়োটিক সেবনের নিয়ম হচ্ছে সঠিক রোগ নির্ণয় করে ঐ রোগের জন্য যে জীবাণুটা দায়ী সেই জীবাণুটা মারার জন্য যেই এন্টিবায়োটিকটি অধিকতর কার্যকর সে এন্টিবায়োটিকটি প্রয়োগ করা। আবার সঠিক এন্টিবায়োটিক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ না হলে জীবাণু মরতে মরতে বেছে যাবে আর বেছে গেলে আরও শক্তিশালী আকার ধারন করবে।

সেই ১৯২৮ সালে এলেক্সাজান্ডার ফ্লেমিং প্রথম এন্টিবায়োটিক পেনিসিলিন আবিষ্কার করেছিলেন, সেই থেকে অনেক গ্রুপের এন্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত হয়েছে কিন্তু নতুন গ্রুপের চাইতে একই গ্রুপের নতুন জেনারেশন  বেশি আপগ্রেডেশন হয়েছে।

কিন্তু খুব ভয়ের বিষয় হচ্ছে অনিয়ন্তিত ভাবে ব্যাবহার করার ফলে বেশির ভাগ এন্টিবায়োটিকে এখন আর জিবানু মারা যাচ্ছেনা মানে এন্টিবায়োটিক গুলো জীবাণুর শরীরে রেজিস্ট্যান্স হয়ে গেছে।

কি করবেন ভবিষ্যতে যখন কোন এন্টিবায়োটিক আর কাজ করবেনা তখন আর করোনা ভাইরাসের আর দরকার হবেনা সাধারণ যে কোন সংক্রমণ থেকে মানুষ মারা পরবে।

হাজার হাজার জীবাণু আমাদের খেয়ে ফেলার জন্য সর্বদা উদগ্রীব হয়ে আছে আমরা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়ে বেচে আছি আর যখন প্রতিরোধ করতে পারিনা তখন জীবাণু মারার জন্য  শরণাপন্ন হতে হয় এন্টিবায়োটিকের কাছে। সেই এন্টিবায়োটিক গুলো আমরা অযাচিত ব্যাবহার করে জীবাণুগুলোর শরীরে এন্টিবায়োটিক এর বিরুধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে ফেলছি। এন্টিবায়োটিক কাজনা করার জন্য অনেক মানুষ মারা যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। ভালো হচ্ছেনা অসুখ।

আমি লেখাটি মেডিক্যাল এর ভাষায় লেখিনি খুবই সাধারণ সরল ভাষায় লেখাটি লিখেছি যাতেকরে সবাই আমরা এন্টিবায়োটিক এর প্রয়োজনীয়তা এর গুরুত্ত অনুধাবন করতে পারি এবং  এন্টিবায়োটিক এর  ব্যাবহার এর ক্ষেত্রে  সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে পারি।

লেখক : মো. আজিবুর রহমান (এম ফার্ম, এমবিএ, পিজিডি এইএম)।

ইমেইলঃ aziburewu@gmail.com 

তারিখঃ ৩০/০৪/২০