একনেকে ৯ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) পাইপলাইন পদ্ধতিতে তেল উত্তোলন প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীসহ ২ হাজার ৭৪৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়েসম্বলিত ৯টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ১৫৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৪৪০ কোটি ৭৯ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে প্রকল্প সাহায্য পাওয়া যাবে ৯৪৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সভাকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন।
সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন,পাইপলাইন পদ্ধতিতে তেল উত্তোলনের লক্ষ্যে গৃহীত ‘ইনস্টেলেশন অব সিঙ্গেল মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীসহ ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৪২৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা । এখন দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে এক হাজার ১৪২ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৫৬৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে চায়না এক্সিম ব্যাংক। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পক্ষে ইস্টার্ণ রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) এর বাস্তবায়ন করছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রচলিত লাইটারেজ পদ্ধতিতে তেল খালাস করা সময় সাপেক্ষ,ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমদানি করা ক্রুড অয়েল এবং ফিনিসড অয়েল পাইপ লাইনের মাধ্যমে সহজে, নিরাপদে,স্বল্প খরচে এবং স্বল্প সময়ে খালাস নিশ্চিত করা যাবে। এ লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রতিবছর সরকারের প্রায় ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্প্রতিক সময়ে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইতিহাসের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছে। এখন তা ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মান্নান জানান,একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণ দেওয়া যায় কি না, তা অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক চিন্তাভাবনা করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ আমরা বিদেশিদের কাছ থেকে ডলারে ঋণ নিই। আমাদের রিজার্ভ এখন ৩৬ বিলিয়ন ডলার। এখান থেকে আমরা ঋণ নিতে পারি কি না? বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণের পক্ষে এই টাকা সংরক্ষণ করে। ওখান থেকে আমরা প্রকল্পের জন্য ঋণ নিতে পারি।’
এসময় তিনি আরো বলেছেন,বিদেশ থেকে আমরা যে সুদে ঋণ আনি তা একটু কম হলেও দেশের টাকা ব্যবহার করলে লাভটা দেশেই থাকবে।
উল্লেখ্য,আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়। বর্তমানের মজুদ রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ৯ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হলো-ঘোড়াশাল তৃতীয় ইউনিট রি-পাওয়ারিং প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা। নওগাঁ জেলার ধামুইরহাট,পতœীতলা ও মহাদেবপুর উপজেলাধীন ৩টি প্রকল্পের পুনর্বাসন এবং আত্রাই নদীর ড্রেইজিংসহ তীর সংরক্ষণ,এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। দিনাজপুর শহর রক্ষা প্রকল্পের পুনর্বাসন এবং দিনাজপুর শহর সংলগ্ন ঢেপা ও গর্ভেশ্বরী নদী সিস্টেম ড্রেজিং খনন প্রকল্পের বাস্তবায়নে খরচ হবে ৩২৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা। গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পাঁচপীর বাজার-চিলমারী উপজেলা সদর দফতরের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কে তিস্তা নদীর ওপর ১৪৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, এর ব্যয় হবে ৮৮৫ কোটি টাকা।
এছাড়া রূপগঞ্জ জলসিঁড়ি আবাসন সংযোগকারী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন খরচ ধরা হয়েছে ১৫২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। জামালপুর ও শেরপুর জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, যার ব্যয় হবে ৫০৫ কোটি টাকা। চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলাধীন ডাকাতিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, ব্যয় ১০৭ কোটি টাকা এবং এস্টাবলিস্টমেন্ট অব গ্লোবাল মেরিটাইম ডিসট্রেস অ্যান্ড সেফটি সিস্টেম অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম প্রকল্প, এর বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮৭ কোটি টাকা।

image_print