ভ্যাট ই-পেমেন্ট পদ্ধতি চালু

অনলাইনে মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা দেয়ার লক্ষ্যে ই-পেমেন্ট পদ্ধতি চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প মিলনায়তনে এনবিআর চেয়ারমান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুর ইসলাম,অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার,পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এ বি এম আব্দুল ফাত্তাহ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হুমায়ুন কবীর। এছাড়া অনুষ্ঠানে এনবিআর সদস্য মো. মাসুদ সাদিক ও মো. জামাল হোসেন, এইচএসবিসি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব-উর-রহমান এবং ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ই-পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে ভ্যাটের আওতায় নিবন্ধিত ব্যক্তি নিজস্ব ব্যাংক হিসাব হতে সরাসরি ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্কসহ যে কোন প্রদেয় কর সহজে, ঝুঁকিমূক্ত অবস্থায় এবং কম সময়ে সরকারি কোষাগারে পরিশোধ করতে পারবেন। এই পদ্ধতিতে করদাতার কোন ধরনের হয়রানি থাকবে না বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, ই-পেমেন্ট পদ্ধতির কারণে ভ্যাটের হিসাবে আরও স্বচ্ছতা আসবে এবং কর ফাঁকির সুযোগ বন্ধ হবে।
ই-পেমেন্ট বা অনলাইনে ভ্যাট দেওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে এইচএসবিসি,প্রাইম ও মিডল্যান্ড ব্যাংক যুক্ত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে এ প্রক্রিয়ার আওতায় আনা সম্ভব হবে। এ পদ্ধতির আওতায় ভ্যাট পরিশোধের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভ্যাটের চালানের কপি বাংলাদেশ ব্যাংক,সিজিএ ও ভ্যাট অফিসে চলে যাবে। এক কপি যাবে ভ্যাটদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে।
রহমাতুল মুনিম জানান, আগামীবছর থেকে ব্যাক্তি শ্রেণীর করদাতাদের জন্য ই-চালান (ইলেকট্রনিক ট্রেজারি চালান) বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা চলছে। তাই ই-চালান পদ্ধতি চালু করার জন্য অর্থ বিভাগ একটি সফটওয়্যার ডেভেলপ করছে। এর মাধ্যমে যে কেউ বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারিতে টাকা জমা দিতে পারবেন। জমার একটি ইলেট্রনিক ট্রেজারি চালানও পাবেন।
উল্লেখ্য, ভ্যাট অনলাইনের আওতায় এ পর্যন্ত নিবন্ধন নিয়েছে এক লাখ ৬৬ হাজার প্রতিষ্ঠান। মাসে গড়ে একশ’ থেকে দেড়শ’ প্রতিষ্ঠান নতুন নিবন্ধন নিচ্ছে। তবে নিবন্ধন নিলেও সবাই মাসিক রিটার্ন জমা দেয় না। গড়ে প্রতি মাসে ৪২ হাজারের মত প্রতিষ্ঠান অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করে। অনলাইনের বাইরেও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এখনও রিটার্ন জমা নেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হয়। এক মাসের রিটার্ন পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে জমা দিতে হয়। তা না হলে জরিমানা ও সুদ নেওয়ার নিয়ম রয়েছে আইনে। তবে করোনার কারণে আগামী কয়েক মাস সুদ মওকুপ করেছে সরকার।