লাইফস্টাইল ও অসংক্রামক রোগ : লিখেছেন ওয়ায়েজা মোহাম্মদ জাওয়াদ

লাইফস্টাইল ও অসংক্রামক রোগ : ওয়ায়েজা মোহাম্মদ জাওয়াদ।

কেমিক্যাল এর সাথে এখন বন্ধন আমাদের অটুট। মাথা ব্যাথা? নাপা খাও। ঘাড়ব্যথা? ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়। ঠাণ্ডা লেগেছে? ঐ যে, ওই কেমিক্যালটা খুবই ভালো। মন খারাপ থাকে সবসময়? নাও কেমিক্যাল খাও। কারোই দোষ নাই আসলে।
বাজারে যাবো? ফলমূল কিনবো? সেখানেও কেমিক্যাল। ভাল্লাগছে না লাইফে কিছু? “মামা সিগারেট ধরা। ওহ সরি, কেমিক্যাল ধরা। বেশী না এই মনে কর, ৭ হাজার কেমিক্যাল? পুড়িয়েই তো খাবি। তেমন কিছু হয়না। ওই পিৎজার সাথে white sauce টা বেশী কইরা দিয়ো, আর চায়ে চিনি হয়নাই তো। আরো চিনি দাও, যাতে আমার অগ্নাশয়ের ইনসুলিন অতিষ্ট হয়ে যায় ওই চিনি সরাইতে সরাইতে।” “মামা, ২ বোতল কেমিক্যাল কিনে নিয়ে আয় তো, খুব চিল করবো আজকে।”
এতো খেয়েও ভাল্লাগছে না? নাও, একটু ফোন হাতে নিয়ে ফেসবুক টা scroll করো, আর বেশী বেশী ডোপামিন নিঃসরণ করো। ডোপামিন? ওই যে কেমিক্যাল! সাথে অক্সিটোসিন ফ্রী!
শুধু আমরাই? না, USA এর ৫০-৭০% মানুষের জীবন prescription medication এর উপর নির্ভরশীল। আর বাকিরা অবশ্যই রাস্তার পেছন থেকে কেমিক্যাল কিনে নেয়। USA ই বললাম শুধু। একসময় ব্রিটিশদের কে সাহেব মানতাম, এখন আমেরিকানদের মডেল মানি তাই আরকি। (সবাই না)
এখন আমাদের খাদ্য প্রস্তুত করতে কেমিক্যাল লাগে। আমরা যে পানি খাই সেখানেও কেমিক্যাল। দর্শনধারীর ছায়ায়, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে কেমিক্যাল লাগে। মনের শান্তির জন্য কেমিক্যাল লাগে। এমনকি চিল করতেও কেমিক্যাল লাগে। নিঃশ্বাসের সাথে যে বাতাস ভেতরে নিই সেটার কথা আর নাই বা বলি। (না, একটু বলি, এই শীতের দিনে সুন্দর যে কাপড়টা পড়ে আছেন, আপনার ঘরের দেওয়ালের রং, আপনি যে টেবিলে বসে পড়েন/ কাজ করেন, যে চেয়ারটিতে বসে আছেন, formaldehyde, benzene, Trichloroethylene… কি নেই তাতে? যে বাতাসে প্রতিদিন এগুলো মিশে, সেই বিষাক্ত বাতাসেই নিমজ্জিত আমরা। ভয় পেয়েন না। xD এগুলো আমি প্রশান্ত মহাসাগরের এক বালতি পানির কথা বললাম।
যে মেরুদন্ড আমাদের দেহকে সোজা করে ধরে রাখে সেই মেরুদন্ড কে সারাদিন বাঁকা করে রেখে, বসে থেকে আমরা কমপ্লেইন করি মাথা ব্যাথা কেনো হয়, ঘাড়ব্যথা কেনো হয়। কারোই দোষ নাই আসলে।
“চল একটু বাইরে থেকে হেঁটে আসি।” “আরেহ না, আমার বসে থাকতে হবে না? নাহলে আমার abdominal fat জমা হবে কিভাবে?” “তেলে ভাজা মজাদার জিনিস খেয়ে বসে থেকে আমাদের আমাদের হার্টের আর্টারিগুলোর ভেতর LDL না জমিয়ে রাখলে হবে?” প্রতিদিন একবার সুখটান দিয়ে ক্যান্সার ধরিয়ে তারপর সারাজীবনের ইনকাম নিয়ে চিকিৎসকদের কাছে ছুটতে হবে না?
কিছু মানুষ এমন গাড়ি বানানোর চেষ্টা করছে যা থেকে ধোঁয়া বের না হয়। আর কিছু মানুষ যে মেশিন থেকে ধোঁয়া বের হয় না, সেটা থেকে জোর করে ধোঁয়া বের করছে। (How to destroy eco-friendly features from a machine smartly
আমি কোনো কিছুর বিরুদ্ধে না। আমি বলছিনা যে সিগারেট খাওয়া ভালো না খারাপ। এটার সাথে morality কে মেলাচ্ছিনা। আমি কেউ না এসব বলার। তবে এতো এতো মানুষ যদি এভাবে কেমিক্যাল এর উপর নির্ভরশীল হতে থাকে এবং এভাবে এক বিস্ময়কর জগতে নিমজ্জিত হতে থাকে, তাহলে আমরা সামনে যে জেনারেশন তৈরি করবো, তারা আমাদের থেকে এক ধাপ পিছিয়ে থাকবে। তাদের কি উচিৎ না আমাদের থেকে একটু হলেও এগিয়ে থাকা? কারণ, পরের জেনারেশন একধাপ এগিয়ে না থাকলে কোনোদিন মানুষের civilization হতো না। এমন হতে থাকলে, আমাদের পরের জেনারেশনগুলো আমাদের থেকে একধাপ পেছাতে পেছাতে হয়তো একদিন থেমে যাবে। আর এর জন্য দায়ী কারা থাকবে? আমরা? ওহ! আমাদের তো কোনো দোষ নেই আবার। কি জ্বালা!
We are going to commit a crime against humanity by producing unhealthy, confused and unproductive generation after us whether it is consciously or unconsciously. We should not stop the human civilization like this. Millions of people dedicated their lives to gift us this golden era in which we are living now.
লেখক:ওয়ায়েজা মোহাম্মদ জাওয়াদ
শিক্ষার্থী, নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি।
তারিখঃ ১০/০১/২১