“করোনায় অশনি সংকেত; নিকটেই আশার বাতিঘর”: এম আই প্রধান

করোনায় এই মুহুর্তে দেশের অবস্থা খুব একটা সুবিধার লাগছে না। শহরে তো আছেই, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল বা গ্রামের কোন এক বাড়িতে একজনের গায়ে জ্বর, মাথাব্যথা বা সর্দি-কাশি দেখা দিলে মুহুর্তেই সেই বাড়ির অন্য সবার গায়েও জ্বর,কাশি চলে আসছে। তারা আবার অন্যদের সাথে মিশে অন্য বাড়ির মানুষদেরকেও আক্রান্ত করছে।
এটা মোটেও ভালো লক্ষ্মণ না। আজ থেকে দেশে কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি যেরকম হচ্ছে, তাতে এটি কোথায়, কবে থামবে বলা দুরূহ।
এই মুহুর্তে দেশের হাতে দুটি অস্ত্রই বাকি আছে-
এক, যেকোন মুল্যে দেশে ভ্যাক্সিন আনা।
দুই, কঠোর ও পাকাপোক্তভাবে লকডাউন পালন করা।
বড় বেশি আশার কথা হচ্ছে, ভ্যাক্সিন ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকার খুব বড় ধরনের সফলতার মুখ দেখতে পেরেছে আজ। আগামীকাল,২ জুলাই রাতেই ২৩ লক্ষ ও পরশু সকালে আরো ২২ লক্ষ ভ্যাক্সিন দেশে চলে আসছে। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আরো একটি খুশির কথা। সেটি হচ্ছে, এই ভ্যাক্সিন এখন থেকে দেশে এভাবে আসতেই থাকবে এবং আগামী মার্চের মধ্যেই দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে ভ্যাক্সিন দেয়াও সম্পন্ন করা হবে। এটি করা গেলে স্কুল, কলেজ,ভার্সিটি সহ সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশে আবার চালু হয়ে যাবে। সে নাগাদ অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই কারো হাতে এটি আমি জোর গলাতেই বলতে পারি।
যা কছুই বলি, আমাদের তো আরো কিছু মাস অপেক্ষা করতেই হবে। এসময় স্বাস্থ্যবিধিও কঠোরভাবে মানতেই হবে। এর বিকল্প তো অন্য কোন উপায় নাই।
অথচ এই কঠিন পরিস্থিতির কথা বা স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা কিংবা কঠোরভাবে লকডাউন পালনের পক্ষে কিছু লিখলে বা বলতে গেলেই দেখা যাবে কিছু মানুষ এই পোস্টেই সরকারের নানারকম সাফল্য-ব্যর্থতার ফিরিস্তি টেনে নিয়ে আসতে থাকবে। সরকার এই করেনি, ঐ করেনি ইত্যাদি ইত্যাদি।
আর হ্যা, বছরব্যাপী স্কুল, কলেজ বন্ধ রাখা প্রসঙ্গে দুটি কথা বলতেই চাই। তা হলো, সরকার অত্যন্ত যৌক্তিক কারনেই দেশের স্কুল, কলেজ বছরব্যাপী বন্ধ রেখেছে। সরকার যদি কারো কথায় কান দিয়ে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি খোলা রাখতো, তাহলে অনেকটাই নিশ্চত থাকুন, করোনায় দেশ ম্যাচাকার হয়ে যেত অনেক আগেই। দেশের লক্ষ লক্ষ শিশুদের স্বাস্থ্যবিধি মানিয়ে স্কুলে পাঠানো হতো, আর আক্রান্ত হয়ে তারা বাড়ির অন্য সবাইকে এক এক করে আক্রান্ত করতো। স্কুলে একজন থেকে অতি দ্রুত সবারই হয়ে যেত। এক কথায়, এটি হতো চরম বোকামির কাজ। অথচ স্কুল, কলেজ বন্ধ রাখা নিয়ে কত হাসি ঠাট্রা চলছে, ট্রোল ভিডিও চালানো হচ্ছে।
আমার কথা হচ্ছে, এধরনের উস্কানিমূলক কথাগুলো বলে এই মুহুর্তে মানুষকে বিপদে ফেলা ছাড়া আর কোন লাভ আছে কি? দেশের মানুষ গণহারে আক্রান্ত হোক সেটা ভালো, নাকি কিছুটা দিন আর্থিক কষ্টে থাকা ভালো? আমেরিকা, ইউকে,ইটালি,ইন্ডিয়া কুপোকাত হয়ে একদম সোজা হয়ে গেছে; আর আমরা তো সেই তুলনায় নস্যি!
দেশে টোটাল করোনা বেড আছে মাত্র ১২ হাজারের মতো। রাতারাতি তো পুরো দেশকে হাসপাতাল বানানো সম্ভব না। এর মধ্যে করোনা ছাড়াও তো ক্যান্সার, লিভার, সিরোসিস,ডায়াবেটিস সহ অন্যান্য নানারকম জটিল রোগিদেরও চিকিৎসা এখন কেবল দেশেই দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য এখন তো হাজার হাজার মানুষ বিদেশেও যেতে পারছে না। সব চিকিৎসা করোনাতেই হলে বাকি রোগীরা যাবে কোথায়?
যাইহোক, আজকেও করোনায় দেশে রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যু হয়েছে। কি হবে এসব বলে। ভেবেছি, এগুলো আর বলবই না। আমার মতো যাদের নিজেদের পরিবারে করোনা আঘাত হানবে; একজন একজন করে পরিবারের সদস্য আক্রান্ত হবে, তখন ঠিকই বড় বড় কথার দাপট বন্ধ হয়ে যাবে। মানুষ তখন চুপচাপ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরের বাইরে বের হবে। করোনা সংক্রান্ত সব নিয়ম কানুন ঠিকঠাক মেনে চলবে।
পুনশ্চঃ আসুন দোয়া করি সবাই, যাতে প্লান অনুযায়ী সরকার ঠিকভাবে সব ভ্যাক্সিন কিনে এনে দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে দিতে পারে। এর জন্য হয়তো আরো কয়েক মাস আমাদের ভোগান্তিতে থাকতে হবে, তবুও মনে রাখতে হবে, এই ভ্যাক্সিনই হচ্ছে আমাদের আগামী দিনে করোনা মহামারী থেকে মুক্তির অন্যতম একটি শ্রেষ্ঠ উপায়। কাজেই, আবার আগের মতো করে বাঁচতে চাইলে, কারো ফালতু কথায় কান না দিয়ে, ভ্যাক্সিনের জন্য দোয়া তো আমাদেরকে করতেই হবে।
লেখকঃ এম আই প্রধান, পাবলিক রিলেশন অফিসার, মাননীয় মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
তারিখঃ ০২/০৭/২১