ইনশাল্লাহ্, রিজার্ভ নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই: অধ্যাপক আ ব ম ফারুক।

লেখক : অধ্যাপক আ ব ম ফারুক, সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু পরিষদ।
বিএনপি-জামাত ইদানীং বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি রিজার্ভ ‘খুব কমে গেছে’ বলে তারস্বরে সরকারের দেদার সমালোচনা করছে। তাদের মতে সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশ নাকি অচিরেই শ্রীলংকার মতো দেউলিয়া হয়ে যাবে।
বাংলাদেশের রিজার্ভ এখন সঠিক কত তা আমার জানা ছিল না। বঙ্গবন্ধু পরিষদের অন্যতম কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞ জনাব লুৎফুর রহমান জানালেন যে এই মুহূর্তে আমাদের রিজার্ভের পরিমাণ ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা কিছুদিন আগে আরো বেশি ছিল। তবে আইএমএফের ভিন্ন ধরনের হিসাবে এই পরিমাণটা ৩২ বিলিয়ন ডলার। তিনি যথেষ্ট খোঁজখবর রাখেন বলে সঠিক তথ্য দিতে সক্ষম।এ জন্য লুৎফুরভাইকে ধন্যবাদ।
কিন্তু আমার অবাক লাগলো যে তাহলে বিএনপি-জামাত এত হৈহৈ করছে কেন? দেশ দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে তাই বা বলছে কেন?
যদি আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী আমাদের রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার হয়েও থাকে তবুও আমাদের প্রায় ৫ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য তা যথেষ্ট। একটা দেশের রিজার্ভে যদি আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর ক্ষমতা থাকে তবে কোনো ভয় নেই বলে আমাদের অর্থনীতিবিদরা তো বটেই, এমনকি বিশ্বব্যাংক-আইএমএফরাও বলে থাকে।
তাহলে বিএনপি-জামাত এত হৈচৈ করছে কেন? তারা তো ২০০৭ সালে যাওয়ার সময় রেখে গিয়েছিল মাত্র সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। ২০০১ সালে তারা ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বছর শেষে তাদের রিজার্ভ ছিল মাত্র পৌণে ২ বিলিয়ন ডলার। তখন যদি দেশ দেউলিয়া বা শ্রীলংকা না হয়ে থাকে তাহলে এখন তা হবে কেন? এখনতো বাংলাদেশের হাতে আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী ২০০২ সালের তুলনায় ১৯ গুণ বেশি এবং ২০০৭ সালের তুলনায় ৯ গুণ বেশি রিজার্ভ রয়েছে।
আর যদি বাংলাদেশ সরকারের হিসাব ধরি তাহলে বর্তমানে বাংলাদেশের হাতে আছে ২০০২ সালের তুলনায় ২৩ গুণ বেশি এবং ২০০৭ সালের তুলনায় ১১ গুণ বেশি রিজার্ভ।
বিএনপি-জামাতের কি লাজ-শরম বলতেও কিছু নেই? নিজের শাসনামলের কথা মনে থাকে না? একতরফা এত মিথ্যা কথা বলছে কেন?
ইনশাল্লাহ্, রিজার্ভ নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তাছাডা প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের কারণে প্রতি মাসে আমাদের রিজার্ভ তো আল্লাহর রহমতে বাড়ছেই।
বিএনপি-জামাতের মিথ্যার বেসাতি
যত তাড়াতাড়ি বন্ধ হয় ততোই মঙ্গল।
জয় বাংলা।
তারিখঃ ২৮/০৭/২২