বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প এবং ইডিসিএল এর অগ্রগতি তথা ভ্যাকসিন প্রকল্প নিয়ে অধ্যাপক ডাঃ এহসানুল কবির জগলুল মহোদয়ের আলোচনা।

অধ্যাপক ডাক্তার এহসানুল কবির জগলুল, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (EDCL) -এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশে ওষুধ শিল্পের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আপনি কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?
অধ্যাপক ডাক্তার এহসানুল কবির জগলুলঃ আমাদের স্বাধীনতার পরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিতরে অন্যতম সেক্টর হল স্বাস্থ্য খাত, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম যে চেতনা জনগণের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, তিনি প্রথম থেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা  করেন, জাতির জনক সবকিছু নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন পরবর্তীতে তাহার মেয়ে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব নেবার পরে এই ওষুধ শিল্পের প্রতি বিশেষ নজর দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম যে ব্যাপার তা হচ্ছে চিকিৎসা, কিন্তু ওষুধ ছাড়া সেই চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, যদিও কাউন্সিলিং উপদেশ চিকিৎসারই একটি অংশ। কিন্তু মুল উপাদান হচ্ছে ওষুধ, তারই প্রেক্ষাপটে আমাদের এই এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিষ্ঠান যাহা বিনামূল্যে সাধারণ মানুষকে হাসপাতালের মাধ্যমে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঔষধ বিতরণ করে থাকে।
আপনাদের জ্ঞাত সারে আমি বলতে চাই ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন কর্তৃক ৪০০ ড্রাগসকে এসেনসিয়াল ড্রাগস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, এই ৪০০ ড্রাগস এর ভিতরে আমরা প্রায় ১৫০ টি অ্যাসেনসিয়াল ড্রাগস উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের এই এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড এর এর লক্ষ্য প্রডাকশন নিশ্চিত করা এবং কোয়ালিটি নিশ্চিত করে পরিবর্তিতে আমাদের সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে সেই ঔষধ মহেশখালী থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত এই ওষুধ আমরা তৈরি করে কোয়ালিটি নিশ্চিত করে আমাদের নিজস্ব সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে সর্বস্তরে পৌঁছে দিয়ে থাকি।
আমাদের যে মূল লক্ষ্য-এই ওষুধগুলো তৈরি করার পরে কোয়ালিটি নিশ্চিত করে ইভেনচুয়ালি স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অথরিটি যেমন হসপিটাল, মেডিকেল কলেজ, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র,  এমনকি কমিউনিটি ক্লিনিকে আমরা যখন ওষুধ পৌঁছে দেই তখন বিনামূল্যে এই ওষুধগুলি রোগীদের দেওয়া হয়। এটা একটা রেভ্যুলেশন বলতে পারেন আমাদের মত দেশে একিউট অবস্থাকে কন্ট্রোল করার জন্য বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়।

প্রশ্নঃ সরকারিভাবে যেহেতু ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে সেই ক্ষেত্রে সরকার কি ভর্তুকি দিচ্ছে নাকি এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড লাভবান রয়েছে?

অধ্যাপক ডাক্তার এহসানুল কবির জগলুলঃ কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট বলে একটি প্রতিষ্ঠান আছে কমিউনিটি ক্লিনিকের সার্বিক ব্যবস্থাপনা এই ট্রাস্ট মেইন্টেন করে থাকেন। আমি সেখানের বোর্ড অফ ট্রাস্টির একজন মেম্বার, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়ালি আমাদের সাহায্য করে থাকেন। সেখান থেকে আমরা ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে তুলনামূলক স্বল্পমূল্যে কাঁচামাল ক্রয় করে ওষুধ উৎপাদন করে থাকি।

প্রশ্নঃ করোনা মহামারীর সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের থেকেই ভ্যাকসিন তৈরির একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন এবং এই দায়িত্ব আপনার এসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানি লিমিটেডকে দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে গোপালগঞ্জে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদন কারখানা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছেন তার বর্তমান অবস্থা কি?

অধ্যাপক ডাক্তার এহসানুল কবির জগলুলঃ আমরা জানি করোনা মহামারী সারা বিশ্বব্যাপী একটি দুর্যোগ কিন্তু আমাদের দেশ সেই দুর্যোগটা সফলভাবে আমরা মোকাবেলা করেছি, এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড সেই সময় ২৪ ঘন্টা উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে, করোনা মহামারীর সময়ে ক্লিনিক্যাল ট্রিটমেন্টের জন্য যে ঔষধ গুলো দরকার ছিল সেই ওষুধগুলো  ২৪ ঘণ্টা উৎপাদন করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাপ্লাই দিয়েছি।
সেই সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে করোনা ভাইরাসে আমরা আক্রান্ত হয়েছি, ভবিষ্যতেও আমাদের অনেক ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারি এবং তার জন্য এখন থেকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বর্তমানেও অনেক ভাইরাস সংক্রান্ত অসুখে আমাদের ভ্যাকসিন প্রয়োজন হয়ে থাকে।
করোনা মহামারীর সময়ে ভ্যাকসিন সংগ্রহের ক্ষেত্রেও সরকারের অনেকটা বেগ পেতে হয়েছে কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে এবং তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে, তখন তিনি রিয়েলাইজ করেন আমরা যদি ভ্যাকসিন  উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারি তাহলে আমরা আত্মনির্ভরশীল থাকতে পারবো, তারই প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ আলোচনার প্রেক্ষিতে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এর সাহায্যে আট একর জমির উপরে আমরা এই ভ্যাকসিন প্ল্যানটি প্রতিষ্ঠা করবো।
এটা এককি সাত বছরের প্রকল্প, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ফাইন্যান্স করছে এবং বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ফাইন্যান্স করছে। ২৫০ মিলিয়ন ডলার এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রদান করবে এবং বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ৫০ মিলিয়ন ডলার দিবে। এই ভ্যাকসিন প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করার জন্য অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানি লিমিটেডকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি একনেকে পাশ হয়ে গিয়েছে এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক তার ফাইন্যান্স প্রদান করার প্রসিডিওর সম্পন্ন করে ফেলেছে। এটি একটি ৭ বছরের পরিকল্পনা, প্রথম দুই বছর হবে  ফিল এন্ড ফিনিশ, পরবর্তী তিন বছরে হবে মেইন ভ্যাকসিন ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্ট, পরবর্তী দু’বছর হবে আর এন ডি (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট)।
আপনারা জানেন এগারটি ভ্যাকসিন দেশের বাহির থেকে কিনে এনে বিনামূল্যে সাধারণ মানুষকে দেওয়া হয়, তার সাথে আমরা করোনা ভ্যাকসিন অ্যাড করে মোট ১২ টি ভ্যাকসিন উৎপাদন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।

তারিখঃ ০৮/০০৬/২০২৪/এ আর