HOME HEALTH ইডিসিএল এর ব্যাপক সাশ্রয়, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন সংস্কার এবং নতুন...
এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) শুধু ওষুধের দাম কমানোই নয়, বরং নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে এবং সরকারি স্বাস্থ্যখাতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে বেশ কিছু নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ আব্দুস সামাদ মৃধা। এই উদ্যোগগুলোর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো জনগণের জন্য স্বল্প মূল্যে উচ্চ মানের ওষুধ নিশ্চিত করা এবং দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও স্বনির্ভর করে তোলা।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ আব্দুস সামাদ মৃধা বলেনঃ
-
দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইডিসিএল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে, কমেছে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয়।
-
প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে টোল ম্যানুফ্যাকচারিং আগের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশে নামানো হয়েছে। প্রিন্টেড প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়াল শেষ হলে টোল ম্যানুফ্যাকচারিং আরও অনেক কমিয়ে আনা হবে এবং পর্যায়ক্রমে টোল ম্যানুফ্যাকচারিং সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। আগে ৩৩টি আইটেমের ওষুধ বাইরের কারখানায় উৎপাদন করা হতো, এখন করা হচ্ছে ১২টি আইটেম। এর ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩০ কোটি ৬৭ লাখ টাকার সাশ্রয় হয়েছে। ধীরে ধীরে নিজেদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে পুরোপুরি টোল ম্যানুফ্যাকচারিং বন্ধ করা হবে।
-
৩৩ টি ওষুধের দাম কমানো হয়েছে বাকি ওষুধের দাম কমানোর কাজ চলছে।
-
সরকার আমাদের বলেছেন স্বচ্ছ ক্রয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে, আমরা প্রোকিউরমেন্ট এর স্বচ্ছতা ফিরিয়ে এনেছি সকলকে টেন্ডার এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে।’ গুড সোর্স থেকে তুলনামূলকভাবে স্বল্প মূল্যে এ পি আই ক্রয় করা হচ্ছে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে।
-
সাময়িকভাবে প্রায় ৬০০ অতিরিক্ত অদক্ষ জনবল কমানো হয়েছে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পুনরায় তাদের নিয়গ দেয়া হবে।
-
ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা হয়েছে ‘ইডিসিএলের ক্রয় প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ায় টেন্ডারে এখন বেশি দরদাতা অংশ নিচ্ছেন। এতে প্রতিযোগিতামূলক দামে কাঁচামাল ক্রয় করা যাচ্ছে। ফলে চলতি অর্থবছরে ২৬ কোটি ৬৮ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৭ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। আগে দরদাতারা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াতেন। এখন প্রতিযোগিতামূলক দর নিশ্চিত হওয়ায় ভালো উৎস থেকে কম দামে কাঁচামাল পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের ক্রয়-সংক্রান্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে স্থানীয় ও আমদানি উভয়ক্ষেত্রেই মোড়ক, কাঁচামাল, প্রকৌশল সামগ্রী ক্রয়, স্টেশনারি ও অন্যান্য ক্রয়, ডাইনিং-সংক্রান্ত ব্যয়সহ সার্বিক খরচের হার ইতোমধ্যে মধ্যে কমিয়ে আনা হয়েছে। ঢাকা, খুলনা ও বগুড়া প্রকল্পের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের কাজ চলছে। প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে সরকারের ওষুধের চাহিদা পরিপূর্ণভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে।
-
লে টাইম কমিয়ে প্রতিদিন প্রতি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীর ১ কর্ম ঘন্টা বাড়ানো হয়েছে ফলে সকল কারখানা মিলে প্রতিদিন ৬০০০ কর্মঘন্টা বৃদ্ধি পেয়েছে ফলে উৎপাদনশীলতা বা প্রোডাক্টিভিটি বেড়েছে। অভার টাইম কমিয়ে আনা হয়েছে এতে কোম্পানির প্রচুর অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। ‘এই বাড়তি দক্ষতা বছরে প্রায় ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ টাকা সাশ্রয় এনে দিয়েছে। ফলে প্রতিদিনের কাজ নির্ধারিত অফিস সময়ের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হচ্ছে।’
-
কর্মীদের মোটিভেশন ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘মোটিভেশন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের উৎপাদনমুখী করা হয়েছে। আগে যেখানে অনেক শ্রমিক কর্মবিমুখ ছিলেন, এখন তারা সময়মতো দায়িত্ব পালন করছেন। এতে কাজের গতি ও মান বেড়েছে।
-
প্রোডাক্টের গুণগতমান বৃদ্ধির জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, সরকারি সাপ্লাই চেইন উন্নত করা হয়েছে, ফলে বেশি পরিমাণ এসেনশিয়াল প্রোডাক্ট সরকারের কাছে সরবরাহ হচ্ছে।
-
ইডিসিএলের ঢাকা ফ্যাক্টরির পাশে ৬৭ দশমিক ১০৯ ডেসিমেল জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণাধীন। এতে জিএমপি মানোন্নয়ন ছাড়াও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং ভাড়াকৃত গুদামের খরচ বছরে প্রায় ১৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
-
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে ইডিসিএলের নতুন টিকা উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ প্রক্রিয়া পুরোদমে চলছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে চালু হবে। এটি চালু হলে দেশে ভ্যাকসিনের চাহিদা পূরণ করেও বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া একই এলাকায় এফডিএ গাইডলাইন অনুযায়ী আধুনিক ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানা নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ উৎপাদন সম্ভব হবে।’ একটি ভ্যাকসিন উৎপাদন মুখি বায়োটেক প্লান্ট এবং অন্যটি এক্সেস্টিং প্লান্ট, as per State of the Art এবং FDA Guideline অনুযায়ী তৈরি হতে যাচ্ছে।
-
উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি: ইডিসিএল-এর লক্ষ্য হলো সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের চাহিদার ৭০% থেকে বাড়িয়ে ৯০% পূরণ করা। নতুন প্ল্যান্ট স্থাপন এবং বিদ্যমান প্ল্যান্টগুলোকে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে এটি অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ‘আগে রাতে কাজ শেষ হতো, এখন সময়মতো সব কাজ সম্পন্ন হয়। কাজের প্রতি সবাই আরও দায়িত্বশীল হয়েছে। এছাড়া, অতিরিক্ত ও অদক্ষ ৭২২ জন কর্মী কমানো হলেও উৎপাদন বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ওষুধ উৎপাদন বেড়েছে ৫৯ কোটি টাকার, কাঁচামাল কেনার খরচ কমেছে প্রায় ৩০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা এবং বেতন বাবদ সাশ্রয় হয়েছে ২৪ কোটি টাকা। ফলে কোম্পানিটি আর্থিক সংকট থেকে বেরিয়ে এসে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরেছে।’
-
জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল এবং আইভি ফ্লুইড (IV Fluid) প্ল্যান্ট: গোপালগঞ্জ শাখায় ইতোমধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ও খাবার স্যালাইন উৎপাদন ট্রায়াল চলছে। পাশাপাশি আইভি ফ্লুইড (৫০০ ও ১০০০ মি.লি.) উৎপাদনের জন্যও মেশিন ট্রায়াল চলছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে দেশে স্যালাইন সরবরাহে বড় পরিবর্তন আসবে। ইন্ট্রাভেনাস (IV) ফ্লুইড বা স্যালাইন উৎপাদন পুরোদমে শুরু হতে যাচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, এই প্ল্যান্টে বছরে ২ কোটি ১৬ লাখ বোতল IV ফ্লুইড উৎপাদন করা যাবে। এর ফলে সরকার কম খরচে IV ফ্লুইড সরবরাহ করতে পারবে এবং ডেঙ্গু বা অন্যান্য রোগের মৌসুমে স্যালাইনের সংকট মোকাবিলা সহজ হবে। বর্তমানে এর পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলছে এবং খুব দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু হবে.
-
ভ্যাকসিন ও বায়োটেক প্ল্যান্ট: ইডিসিএল একটি নতুন বায়োটেক প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এই প্ল্যান্টে প্রচলিত ওষুধের বাইরে ভ্যাকসিন এবং ইনসুলিনসহ অন্যান্য বায়োলজিক্যাল পণ্য উৎপাদন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশীয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে।
তিনি বলেন, আপনারা ইতিমধ্যে জানবেন যে ফার্মাসিটিক্যাল এ ট্রেডিশনাল প্রোডাক্ট এর পরিবর্তে বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্ট যেমন insulin, Erythropoietin এর চাহিদা বেড়েছে আমরা এইসব প্রোডাক্ট উৎপাদনের জন্য রেডি হচ্ছি। তাই ইডিসিএল এ শুধুমাত্র সনাতনী ঔষধ না ভবিষ্যতে সব ধরনের ঔষধ তৈরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় ওষুধ খাতে এক সময়ের স্থবির প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড আজ সফলতার পথে। ইতোমধ্যে ইডিসিএল লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দক্ষ ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছ ক্রয়নীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। দেশীয় ওষুধ খাতের এই রূপান্তর এখন নতুন করে-আশার আলো দেখাচ্ছে। ইডিসিএল হয়ে উঠছে সুশাসনের উদাহরণ। মাত্র প্রায় এক বছরে চোখে পড়ার মতো সাফল্য অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কর্মঘণ্টা বৃদ্ধি, ওভারটাইম ব্যয় হ্রাস, অদক্ষ জনবল কমানো ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এখন নতুন উদ্যমে এগিয়ে চলছে।’
তারিখঃ ০৬/১০/২৫