গণতন্ত্র, আওয়ামী লীগের একত্রীকরণ ও যোগ্যতাসম্পন্ন প্রতিবন্ধীদের গুরুত্ব আরোপ
লেখকঃ ইফতু আহমেদ
অধুনা পৃথিবীর মহাপুরুষদের মধ্যে আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন (১৮০৯-১৮৬৫) ছিলেন একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব। তিনি আমেরিকার Civil War এর সময় আমেরিকার ইউনিয়নের সংরক্ষণ করেছিলেন, অন্যথায় আমেরিকায় দুটি রাষ্ট্রের সূচনা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এ ছাড়াও তিনি বিশ্বকে প্রমাণ করে দেখিয়েছিলেন যে, গণতন্র হতে পারে সরকার পরিচালনার স্থায়ী মাধ্যম। ১৮৬৩ সালে তিনিই ঐতিহাসিক গ্যাটিসবার্গ ভাষণে বলেছিলেন, “Government of the people, by the people and for the people shall not perish from the earth, would live as long as democracy itself.” অর্থাৎ “জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা পরিচিলত এবং জনগণের জন্য পৃথিবীর বুক থেকে মুছে যাবে না, যতক্ষণ গণতন্ত্র নিজেই বেঁচে থাকবে।“ তিনি বলতেনঃ “I destroy my enemy when I make them my friends.” অর্থাৎ “আমি ধ্বংস করি আমার শত্রুকে যখন আমি তাদের বন্ধু করি।” দুর্ভাগ্য যে, এই মহানুভবতার পরিচয় দিতে গিয়ে লিঙ্কনকে আততায়ীর গুলিতে এ ধরা থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল। একই পরিণতির দিকে এগিয়ে ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানও (১৯২০-১৯৭৫)। বঙ্গবন্ধু বলতেনঃ “আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হ’ল আমার মানুষের ভালবাসা, আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হ’ল আমি তাদের খুব বেশি ভালবাসি” অর্থাৎ “My greatest strength is the love of my people, my greatest weakness is that I love them too much.”
তাই বলে আমেরিকার সরকার লিঙ্কনের মত নেতার পরিবারকে পুনর্বাসন করেননি।
এর ব্যতিক্রম দেখতে পাওয়া যায় বাংলদেশে। মরহুম জিয়াউর রহমান (১৯৩৬-১৯৮১) এর হত্যাকান্ডের পর, তদানীন্তন বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে জিয়া পরিবার পুনবার্সন করেছিলেন।
প্রাসাদ রাজনীতির ষড়যন্ত্রে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে দখল করা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাই জিয়ার উল্থান হয়েছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম মিলিটারী ডিক্ট্যাটোর (Military Dictator) হিসাবে। ক্ষমতায় থেকে গড়া এই দলকে লড়াই-সংগ্রাম করতে হয়নি। এ কারণে আজ তাদের দুরবস্থা।
পৃথিবীর সকল গণতান্ত্রিক দেশ বুলেটে নয়, ব্যালেটে সরকার পরিবর্তন আশা করে। এই সত্যের অবমূল্যায়ন করেছিলেন জিয়া।
মহান স্বাধীনতার মহান নেতা মুক্তিযুদ্ধের প্রবর্তনকারী সূর্য সন্তান বঙ্গবন্ধু, “তোমার যা কিছু আছে, তা নিয়ে প্রস্তুত থাকো” ও স্বাধীনতার নেতৃত্ব দানকারী প্রকৃত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে আজ হাইব্রিড (নব্য আওয়ামী লীগ) নেতাদের সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
ইংরেজি Hybrid শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Hybrida থেকে। এর অভিধানিক অর্থ দুটি ভিন্ন উপাদানকে একত্রিত করে তৈরির একটি পদ্ধতি। তাই রাজনৈতিক অর্থে হাইব্রিড উচ্চফলনশীল হলেও এর গুণগত মান যেমন ঠিক থাকে না, তেমনি রাজনীতিতে আসা নব্য আওয়ামী লীগ নেতারা আওয়ামী নেতাদের গুণগত মান বহন করে না। তাই হাইব্রিড এখন আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশকারীর সংজ্ঞা ও শুদ্ধি অভিযানের বিষয় হয়ে উঠছে। অন্যথায় আওয়ামী লীগ সংকট সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখছেI
এটা নতুন কিছু নয়, অতীতে ছিল এখনও আছে I নির্বাচনে সাফল্যে ক্ষমতাসীন দলে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ভীড় জমাবে স্বাভাবিক। জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও ফ্রিডম পার্টির মত দলগুলি থেকে আসা লোকেরা আওয়ামী লীগের সংশয়। কারণ এরা আওয়ামী লীগের দর্শন ও আদর্শের পরিপন্থী। এসব দল থেকে আসা লোকেরা রাতারাতি আওয়ামী লীগ হয়ে উঠবে আশা করা যায় না। তাই যুক্তিসঙ্গত কারণে এদের প্রতি হাইব্রিডের প্রশ্ন উঠে। তাছাড়া অদূরে ভবিষতে এদের ভিতর থেকে আওয়ামী লীগের পার্টির ভিতরে যে ষড়যন্ত্র হবে না এর গ্যারেন্টি কোথায়? তাই এসব দল থেকে আসা লোকদের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
শোষণ, বৈষম্য ও দারিদ্র মুক্ত স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ হচ্ছে আওয়ামী লীগের লক্ষ্য।
আওয়ামী লীগ দলের দর্শন ও আদর্শের মেম্বারশীপ ফর্মে হাইব্রিডদের লিখিত স্বাক্ষর রাখা উচিৎ এবং সে মোতাবেক এদের যথাযত পর্যবেক্ষণ, পরিমার্জন ও সংশোধন করে দলে রাখা যায়I দলের দর্শন ও আদর্শের পরিপন্থি হলে মেম্বারশীপ বাতিল, ফর্মে তা উল্লেখ থাকবে।
আওয়ামী লীগের দর্শন ও আদর্শের ভিত্তিতে মেম্বারশীপ যত বাড়বে, দল ততই শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এভাবে হাইব্রিড নেতাদের আওয়ামী লীগ দলে একত্রীকরণ (Unification) করা যায়I
প্রবাসে থেকেও আওয়ামী লীগের প্রথম ২০২১ রূপকল্প (Vision) জানার সুযোগ হল। এটা ছিল বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের কাছে সুচিন্তিত ৮টি ডিজিটাল রূপরেখা। এর ৬ নম্বরটি ছিল ক্ষমতায়ন ও মহিলাদের জন্য সমান অধিকার। আরো জানতে পেরেছি জেলা-উপজেলা, গ্রাম-পাড়া-মহল্লায় ছাত্র, যুব, মহিলা ও শ্রমিক নেতৃত্ব গড়ে উঠে। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, যোগ্যতাসম্পন্ন প্রতিবন্ধী মানবতার অবদান সম্পর্কে কোথায় উল্লেখ পেলাম না। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধী মানবতার সার্বিক কল্যাণের অগ্রদূত। এখানে এই বৈষম্যের কথা ও পরস্পর বিরোধিতা আহত করে।
বাংলাদেশে আনুমানিক ১৬ মিলিয়ন প্রতিবন্ধী যা দেশের জনসংখ্যার ১০% রয়েছে। তাদেরকে দেশের উন্নয়নের প্রক্রিয়াতে আনতে ব্যর্থ হলে, তারা অন্যের উপর নির্ভরশীল হবে এবং জাতির অর্থনৈতিক ক্ষতিগ্রস্ত হবেI প্রতিবন্ধীদের উপেক্ষা করে জাতীয় অগ্রগতি কঠিন হবে। তাদের প্রশিক্ষণ বা শিক্ষিত করার দায়িত্ব সরকারের রয়েছে যাতে তারা কিছু করতে পারে এবং সমাজে অবদান রাখতে পারে।
আধুনিক বিশ্বে প্রতিবন্ধিতা (Disability) আর কল্যাণকর বিষয় নয়। জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ধর্মনৈতিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যকলাপে অংশ নেওয়াই হচ্ছে আধুনিক প্রতিবন্ধিতার দর্শন। “নিজে বাঁচুন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাঁচতে দিন,” এই মূলমন্ত্রটি। “সামর্থ্যের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করুন, প্রতিবন্ধিতায় নয়”, এই আজ দিনের ক্রম।
প্রতিবন্ধিতা অধিকারগুলি নাগরিক অধিকারের আলোকে উদ্ভূত হয়েছে। “বর্ণ, লিঙ্গ, বয়স, ধর্ম, উৎসের প্রকৃতি, বৈবাহিক অবস্থা, শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা বা প্রতিবন্ধী হিসাবে অবস্থান নির্বিশেষে সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে বৈষম্য রোধ করুন।” এটি মানবতার বিজয় এবং প্রতিবন্ধী মানুষের সমাজ এবং পাশাপাশি দেশে প্রবেশাধিকার অর্জনের বিজয়।
বাংলাদেশে মাইক্রো-লোন বা ক্ষুদ্র-লোন ভাল, তবে কর্মসংস্থানের সুযোগগুলি আরও ভাল। কারণ কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত দিতে হয় না। গ্রামীণ ব্যাংক দরিদ্রতমদের জন্য মাইক্রো-লোন সরবরাহ করে এবং এর ৯৫% গ্রহীতারা হচ্ছেন মহিলা। এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজ করছে। এই লোন-উৎপন্ন আয় কি বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবারগুলিতে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যথেষ্ট? তা না হলে, গ্রামীণরা গ্রামীণ ব্যবসায়িক সংস্থাগুলিতে চাকরি পেয়ে তাদের দারিদ্র্য হ্রাস করতে পারে। নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ইউনূস বলেছিলেনঃ “যদি তারা আগামীকাল দরিদ্রদের দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য আরও ভাল উপায় খুঁজে পায়, তবে তারা মাইক্রো-লোন পরিত্যাগ করবে এবং নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করবে।” এজন্য জনগণকে দারিদ্র্যের জাল থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কর্মশালা, কারখানা, শিল্প ও বড় বড় স্টোর ইত্যাদি স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
জনসংখ্যার বৃহত্তম অংশের উন্নয়ন ছাড়া স্থায়ী শান্তি অর্জন করা যায় না। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা দেশের বৃহত জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবং তাদের বেশীর ভাগ দরিদ্র মধ্যে দরিদ্র। এদেরকে মাইক্রো-লোন তথা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারলে জাতি উপকৃত হবে।
আমেরিকাতে দেখা যায় যে, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার ফলে মহিলা তথা যোগ্যতাসমম্পন্ন প্রতিবন্ধীরা কাজের সুযোগ পেয়ে দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশের এই লেখক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীও ব্যতিক্রম নয় এখানে। বিষয়টি হৃদয়ঙ্গমের সময় এসেছে।
বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার নিয়মতান্ত্রিক সমর্থন (systematic support) প্রয়োজন। প্রতিবন্ধীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য তাদের কল্যাণ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান, জনসাধারণের প্রবেশাধিকার, পরিবহন এবং রাষ্ট্র এবং স্থানীয় সরকার কার্যক্রম, টেলিযোগাযোগ, ভোটদান এবং নির্বাচন, খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক ও কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাদি সরকারকে নিতে হবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষায় সরকারকে নেওয়া উচিত। স্থানীয় সরকারে, সমস্ত স্তরের আসনগুলি যোগ্যতাসম্পন্ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত করা উচিত। জাতীয় সংসদে সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ আসন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক দলের সকল কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলিকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিধান গ্রহণ করা উচিত।
বিশ্বে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাফল্যঃ
কুইনটাস পেডিয়াস
৭৭ সালে প্লিনি দ্য এল্ডার (২৩ – ৭৯), রোমান লেখক তাঁর জাতীয় ইতিহাস গ্রন্থে “কুইনটাস পেডিয়াস”নামক একজন রোমান চিত্রশিল্পী ও প্রথম বধির ব্যক্তির নাম ইতিহাসে উল্লেখ করেন।
জন মিল্টন (১৬০৮-১৬৭৪)
১৬০৮ সালের ৯ ডিসেম্বর ইংরেজ কবি ও রাজনৈতিক বিষয়ক লেখক জন মিল্টন লন্ডনে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৬৩২ সালে ক্যাম্বব্রিজ থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি উচ্চ নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ ছিলেন এবং ধর্ম, প্রেম ও রাজনীতি সম্পর্কে লিখতেন।
১৬৫২ সালে মিল্টন সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েন। ১৬৬৭ সালে তার মহাকাব্য “প্যারাডাইস লস্ট”প্রকাশিত হয়। ১৬৭১ সালে “প্যারাডাইস রিগেইন্ড”ও “স্যামসন এগোনিস্ট”নামক তাঁর দুটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। মিল্টনের তিনটি অবদান তাঁকে ইংল্যান্ডের একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পরিগনিত করে। মিল্টন রাতের বেলায় মনে মনে রচনা করতেন পঙক্তির পর পঙক্তি এবং সকালে তাঁর স্মৃতি থেকে সাহায্যকারীদের লিখে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিতেন। ১৬৭৪ সালের ৮ই নভেম্বর ৬৫ বছর বয়সে তিনি পরলোকে গমন করেন।
লুডউইগ ভ্যান বিথোভেন (১৭৭০-১৮২৭)
লুডউইগ ভ্যান বিথোভেন, জার্মান সুরকার যিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা সুরকার ছিলেন। তাঁর কাজগুলি ক্লাসিকাল ইউরোপীয় সংগীতকে অমর করে তুলেছে। ২০ বছর বয়সে, তিনি তার শ্রবণশক্তি হারাতে শুরু করেছিলেন এবং সম্পূর্ণ বধির হয়েছিলেন। তাঁর বধিরতা তাঁর রচনায় বাধা দান করেনি। বধিরতার পরেও তিনি তাঁর বেশিরভাগ সেরা সংগীত রচনা করেছিলেন।
১৯২৩ সালে বিথোভেন যে ইউরোপীয় সংগীত (European Anthem) রচনা করেছিলেন, তা ১৯৭২ সালে কাউন্সিল অফ ইউরোপ অবলম্বন করে এবং ১৯৮৫ সালে ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দ একে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দাপ্তরিক সংগীত (Official Anthem) হিসাবে গ্রহণ করে।
ফ্রাঙ্কলিন ডেলানোর রুজভেল্ট (১৮৮২-১৯৪৫)
১৮৮২ সালের ৩০শে জানুয়ারী ফ্রাঙ্কলিন ডেলানোর রুজভেল্ট আমেরিকার নিউইয়র্কের হাইড পার্ক নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯০৩ সালে রুজভেল্ট হারভার্ড থেকে ইতিহাসে গ্র্যাজুয়েট হন। ১৯০৪ সালে তিনি প্রবেশ করেন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’স্কুলে এবং ১৯০৭ সালে তিনি বার পরীক্ষায় পাশ করেন।
১৯২১ সালে রুজভেল্ট ৩৯ বছর বয়সে উভয় পদদ্বয়ে পোলিও আক্রান্ত হয়ে প্যারালাইজড হয়ে পড়েন। বাস্তবিকই এটা তাঁকে শারীরিকভাবে অক্ষম করে তুলেছিল, কিন্তু তাঁর চেতনাকে যেনো আরো সমৃদ্ধ করেছে। তিনিই একমাত্র আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, যিনি চার ধারাবাহিক স্থিতিকাল (১৯৩৩-১৯৪৫) ধরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। হুইলচেয়ারে বসেই তিনি আমেরিকার চরম অর্থনৈতিক সংকট ও যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি একজন বিরাট সাহসী যোদ্ধা ছিলেন। তাঁর জীবনের বৃহত্তম বাধাগুলিকে বৃহত্তম সুযোগ-সুবিধাদিতে পরিণত করেছিলেন এবং সফলকামও হয়েছিলেন। তিনি বলতেন: ” Handicaps exist only in the mind ” অর্থাৎ “প্রতিবন্ধকতা কেবল মনের মধ্যে বিদ্যমান।”
হেলেন অ্যাডামস কেলার (১৮৮০-১৯৬৮)
হেলেন অ্যাডামস কেলার, একজন আমেরিকান লেখক, রাজনৈতিক কর্মী এবং বক্তা পুরো দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণ সহ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। যখন তিনি মাত্র ১৯ মাসের শিশু, তখন তিনি এক জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা তার অন্ধ ও বধিরতাকে ধরে রাখে। তিনি প্রথম বধির-অন্ধ ব্যক্তি, যিনি Radcliffe কলেজ থেকে Bachelor of Arts অর্জন করেছিলেন।
বধির নোবেল লরিয়েট
ইতিহাসে তিন বধির নোবেল বিজয়ী চার্লস জুলস হেনরি নিকোল (১৮৬৬-১৯৩৬), স্যার চার্লস স্কট শেরিংটন (১৮৫৭-১৯৫২) এবং স্যার জন ওয়ার্কাপ কর্নফোর্থ (১৯১৭-২০১৩) শ্রেষ্ঠত্বের সেরা উদাহরণ ছিলেন।
বিশ্ব অলিম্পিক
বিশ্ব অলিম্পিকের একটি মাত্র মেডেল যেখানে পৃথিবীর অনেক দেশের কাছে স্বপ্নময়, সেখানে প্রতিবন্ধী এথলেটরা অলিম্পিকের বহু স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ মেডেল ছিনিয়ে এনে ঘোষণা করেছেন প্রতিবন্ধীরা ব্যক্তিরাও খেলাধূলার ক্ষেত্রে শুধু নীরব দর্শকের ভূমিকাতে নেই। তাই আধুনিক বিশ্বে দেখতে পাই ভূমন্ডল জুড়ে নানান প্রতিবন্ধকতার মাঝেও প্রতিবন্ধী মানুষের আপোষহীন নিরলস সংগ্রাম।
সুতরাং বধিরতা ৱা প্রতিবন্ধিতা মহত্ত্ব থেকে পিছনে রাখতে পারে না। এটি একটি অভূতপূর্ব সত্য।
লেখকঃ ইফতু আহমেদ
বি.এ. অনার্স, এম.এ. ইতিহাস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
সম্মানসূচক পিএইচ.ডি খেলাধূলা (বিশ্ব উন্নয়ন সংসদ, ভারত)
এ.এ.এস. ডাটা প্রসিং (ওয়াবনসি কমিউনিটি কলেজ, ইলিনয়, ইউ.এস.এ.)
আমেরিকান সাইন ল্যাংগুয়েজ (ইলিনয়, ইউ.এস.এ.)
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট, জাতীয় এথলেটিক্স ও জাতীয় যুব ফুটবল
চ্যাম্প কলেজ ও ডেফ স্পোর্টস (নর্দান ইলিনয় ইউনিভার্সিটি, ইউ.এস.এ.)
এবং লেখক অরোরা, বৃহত্তর শিকাগোল্যান্ড ইলিনয়, ইউ.এস.এ.
তারিখঃ ১১/১০/২০











