লিখেছেন কবি মুহাম্মাদ আব্দুল লতিফ
করোনা প্রভাবে ছুটি হয়ে গেছে সব, বন্ধ হয়ে গেছে ভার্সিটি, বাড়ি চলে যেতে হবে
সবার মতো প্রেমারও দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে যাবার
আবার কখনো ফেরত আসবে কিনা জানিনা কেউ
বিদায় বেলায় দেবো বলে কেনা ফুলগুলোকে
কেমন শবদেহের অর্পণমাল্য মনে হচ্ছে
তবুও অনেক কষ্টে হাত বদল হলো সেগুলোর
খুব স্বাভাবিক ভাবেই বললাম
‘তুমিও কি ফুলের আয়ুর মত ঝরে যাবে’
একটাও কথা বলেনি প্রেমা
অনেকটা সময় নির্বাক,
নিস্তব্দ দেহ দাড়িয়ে থাকা ওকে দেখে
জড় বস্তুর বেশি কিছু মনে হয়নি
কিছুটা সময় অশ্রুহীন কান্না
পাখির নীড়ের মত চোখদুটো জলে টইটুম্বুর
মনে হচ্ছে ঘণ কালো পাপড়িগুলো
ঢেউহীন সাগরপাড়ে মৃদু কাঁপছে
সেখানে আটকে থাকা জলগুলোকে
কোনভাবেই ঝরতে দিবেনা, যেন পণ করেছে সে।
টোল পড়া দু-গাল মনে হচ্ছে দু-কপোলের কান্নার দাগ
অধর যুগলের শূন্যস্থান পরিহার করে
থির থির কাঁপছে কমলার কোয়ার মত উষ্ঠযুগল
অতপর বিরহের চুড়ান্তক্ষণ
কিছু ভাবার সময় না দিয়ে
শক্ত করে বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করলো প্রেমা
কাঁদলো অনেকটা সময় দুজন
গেইটের কোণায় চুপচাপ বসে থাকা
সাদা বিড়ালটাও কাঁদলো তাদেরই মতো
তারপর ওর লাল ঠোঁট থেকে বের হলো
অপ্রিয় সেই শব্দ, ‘ যদি আর না ফিরতে পারি?
যদি ফিরতে না দেয় এই মহামারী’
অথচ এই প্রেমাই বলেছিলো
‘আমার অদৃষ্ট আমি গড়বো,
আমিহীন তুমি একটি দিনও থাকবেনা ’।
(উল্লেখ্য কবি গত বছর করোনায় লকডাউনে কবিতাটি লিখেছেন।)













