ইডিসিএল এর উন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দিক নির্দেশনাঃ ইডিসিএল এমডি

অতি সম্প্রতি একটি অফিসিয়াল অনুষ্ঠানের আলোচনায় শ্রমিক, কর্মচারী এবং কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এসেনসিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানী লিমিটেড (ইডিসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুস সামাদ মৃধা।

তিনি বলেন “আগে অনেক ধরনের অনিয়ম এবং অপব্যবস্থাপনা ছিল যেগুলো এখনও আছে সেগুলো অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুরুহ ব্যাপার, এখনো আমাকে স্ট্রাগল করতে হচ্ছে অর্থাৎ পুরনো অনিয়ম গুলো ভেঙে বা আগে কোম্পানির যে ক্ষতি হয়েছে সেই ক্ষতিগুলো পুষিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং কোম্পানিকে লাভজনক স্থানে প্রকাশ করা শুধু একজনের পক্ষে সম্ভব নয়, আমার প্রতিটি শ্রমিক কর্মচারী ভাই বোন আপনাদের সহযোগিতা অক্লান্ত পরিশ্রম না হলে ইডিসিএলকে আবারো দার করানো সম্ভব হতো না।
এখনো আমাদের দুইটা প্রজেক্ট লোকসানের মুখ দেখছে, সেই লোকসান থেকে কাটিয়ে ওঠার পরে লাভজনক স্থানে নিয়ে গিয়ে, শ্রমিক কর্মচারীর বেতন, তাদের সুবিধাদি, ফাইভ পারসেন্ট প্রফিট শেয়ার এবং অন্যান্য সুবিধাদি দেওয়া সম্ভব হতো না যদি না আপনারা সহযোগিতা করতেন।
আমার এটাই সবচাইতে ভালো লাগে আমাদের শ্রমিক এবং ম্যানেজমেন্ট এর সাথে যারা সংযুক্ত আছেন তারা যে অবস্থাতেই থাকুক তাদের ব্যক্তিগত লাভ লোকসান চিন্তা করে নাই
অর্থাৎ কে প্রমোশন পেল, কে পজিশন পেল সেদিকে চিন্তা না করে কোম্পানির প্রোডাকশন, প্রোডাক্টিভিটি এবং কোয়ালিটিকে প্রায়োরিটি দিয়েছেন, এটি আমার ভালো লেগেছে।
যার জন্য এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সরকারের সাপ্লাই বেড়েছে, আমাদের প্রোডাকশন, প্রোডাক্টিভিটি বেড়েছে, সেলস বেড়েছে এবং লাভ বেড়েছে বলেই আপনাদের পাচ শতাংশ প্রফিট বেড়েছে।
আমরা আশা করি আপনাদের এই পরিশ্রম অব্যাহত থাকলে অতীতে যে ভুলগুলো, সমস্যাগুলো করে গিয়েছেন-শ্রমিকদের কথা না ভেবে, দেশের কথা না ভেবে, ইডিসিএল এর কথা না ভেবে ব্যক্তি সুবিধা ভেবে ইডিসিএল এর যে ক্ষতি করেছেন সেগুলো সংশোধন করে আমাদের সামনের দিকে আগাতে হবে।

আমি সমালোচনা করতে চাই না কিন্তু আপনাদেরকে একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝানো দরকার, যেমন ঢাকা প্ল্যান্টের অনেক প্রোডাক্ট এর লেভেলে একজন ব্যক্তির ছবি প্রিন্টেট আকারে ছিল, সেই ছবি ঢাকতে আমাদের পরিশ্রম এবং একটা বছর ধরে অনেক কর্মঘন্টা ব্যয় করতে হয়েছে।
ওই কাজগুলো সম্পন্ন করে আবার প্রোডাক্টিভিটিতে কাজ করতে হয়েছে। এভাবেই অনেক ক্ষেত্রে অনেক ভাবে অতীতের কাজের জন্য আমাদের সময় নষ্ট হয়েছে।
অনেক লেভেল মিক্স আপ এবং ভুল করেছে সেগুলো এখনও আমাদের বাছাই করে কাজ করতে হচ্ছে, অনেক লস হচ্ছে এবং ফেলে দিতেও হচ্ছে।
অনেক ঔষধ উৎপাদনের কাঁচামাল অপ্রয়োজনীয় ভাবে ক্রয় করা ছিল সেগুলো থেকে লস হচ্ছে, সেগুলো মেকআপ করা হচ্ছে।
গোপালগঞ্জে একটি বৃহৎ প্ল্যান্ট করা হয়েছে সেখানে এখনো প্রোডাকশনের মুখ দেখতে পাইনি, কিছু কিছু না বললে হয়তো আপনারা বলবেন যে-স্যার তো কিছুই বলল না, এরকমতো কিছু দেখিনা। কিন্তু আমরা যখন দূরবীনের চোখ দিয়ে দেখি তখন প্রত্যেকটি ডিপার্টমেন্টে এমন পাওয়া যায়।

বিভিন্ন জায়গায় এখনো অতিরিক্ত লোক আছে এই অতিরিক্ত লোকগুলো আমাদের বহন করতে হচ্ছে। আপনার পরিস্রমের টাকা দিয়ে তাদেরকে বেতন দিতে হচ্ছে, এই অতিরিক্ত লোক সরিয়ে দেওয়া অমানবিক কিন্তু সরকারের চাপে কিছু লোক আমাকে সরাতে হয়েছে।
এখনো আমার প্রায় এক হাজারের মতো লোক অতিরিক্ত আছে যাদেরকে আমরা কোন কাজ দিতে পারছি না। খুলনাতে, মধুপুরে, স্টোরে অর্ধেক লোক যাদের কোন কাজ নেই।আমিতো ৪০ বছর ধরে কাজ করি আমার তো কাজ না করলে ভালো লাগে না, রাতে ঘুম হয় না, আমারতো কাজ নাই হয়তোবা আমার চাকরিটা চলে যাবে, আমি জানি চাকরি হারানোর বেদনা, আপনার উপরে আপনার পরিবারটা নির্ভর করে।

যদি নতুন নতুন প্রজেক্ট হাতে নেওয়া যায় অথবা যে প্রজেক্টগুলো আছে সেই প্রজেক্টগুলোকে সম্প্রসারিত করে, মেশিন সংযুক্ত করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো যায় তাহলে আমারা এই লোকগুলো কাজে লাগাতে পারি, সেটাই হচ্ছে আমার ফার্স্ট প্রায়োরিটি যাতে করে আমার আর কোনো লোক সরাতে না হয়।

আপনারা গত এক বছর ধরে সহযোগিতা করে আসছেন সেই জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা কোম্পানির কোন উপকার করতে পারছেন না তাতে সমস্যা নাই কিন্তু কোম্পানির ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকুন।
আমার কাছে রিপোর্ট আসলে রিপোর্টের ভিত্তিতে আমাকে ডিসিশন নিতে হবে কোম্পানির ভালোর জন্য, আমি তো ব্যক্তি আপনাকে চিনি না, তাই সবার রিপোর্ট যাতে ভালো থাকে সেভাবেই কাজ করা উচিত।
আপনারা প্রোডাকশন, প্রডাক্টিভিটি, কোয়ালিটিতে সহযোগিতা করুন আমরা যারা ম্যানেজমেন্ট এ আছি আমরা আপনাদের সহযোগিতা করার জন্য সদা প্রস্তুত আছি, কেউ কারো ক্ষতি চাই না।
আমরা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ বেশি কারণ আমাদের ওষুধ সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ গ্রহণ করে থাকে, যে ওষুধের ইন্টিগ্রিটি, কোয়ালিটি আপনাদের উপর নির্ভর করে, সামান্য ভুলের জন্য ওষুধে কোন ত্রুটি হলে দেখা যাবে একটি ব্যাচ মার্কেটে চলে গেলে তাতে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তাই বলি দায়িত্ব সহকারে কাজ করুন কোম্পানি আপনাদের দায়িত্ব নেবে। আপনি কোম্পানির জন্য কাজ করবেন কোম্পানি আপনার জন্য কাজ করবে, আমরা সরকারের চাহিদা পূরণ করি এবং আপনাদের ভাল আমাদেরই করতে হবে। কোম্পানির প্রোডাক্টিভিটি, কোয়ালিটি এবং সেলস দিয়ে আপনাদের জীবন মানে উন্নয়ন করতে হবে এবং আমাদের জীবন মানে উন্নয়ন করতে হবে।

আমার খুব ভালো লেগেছে গত এক বছরেধীরে ধীরে হোক আমরা সামনের দিকে এগিয়ে আসছি এবং ভালোর দিকে যাচ্ছি। দ্রুত না হোক আমরা যদি আস্তে আস্তেও ভালোর দিকে যাই সেটা ভালো লক্ষণ, আমার কাছে সেটাই মনে হয়েছে। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমরা আরো ভালোর দিকে যাব এবং অতীতের যে ভুলগুলো আছে সেগুলো যদি শুধরে আনতে পারি তাহলে আমাদের যে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার রেট তা অনেক বেশি বেড়ে যাবে।

গোপালগঞ্জে আমরা স্যালাইন উৎপাদন এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ ঔষধ উৎপাদন চালু করতে পারছি না, আমরা প্রতিবন্ধকতা গুলো ওভারকাম করে যদি চালু করতে পারি গোপালগঞ্জ প্লান্ট আমাদের লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হবে।
আমরা ঢাকা প্ল্যান্টের পাশে যে জায়গাটা আছে সেখানে একটি ৯ তালা নতুন প্ল্যান্ট করতে যাচ্ছি তাতে ঢাকা প্ল্যান্টের যত সমস্যা আছে, তাহার সমাধান করা সম্ভব হবে। জিএমপি মেনটেন করতে বেগ পেতে হচ্ছে। ম্যান, মেশিন, ম্যাটেরিয়াল সঠিকভাবে হ্যান্ডেল করতে যথেষ্ট পরিমাণ স্পেস নাই, এই সমস্যাগুলোর সমাধান হয়ে যাবে, বগুড়া প্লান্ট সম্প্রসারিত হচ্ছে, গোপালগঞ্জে আমরা আরো নতুন মেশিন সংযোজন করছি ওখানে লোক লাগবে, সিরাজউদ্দি খানের ভ্যাকসিন প্লান্ট এবং জেনারেল প্লান্ট হতে যাচ্ছে। খুলনা প্লান্টে মেডিকেল ডিভাইস সংযুক্ত করে লসকে আমরা পুষিয়ে নিতে পারব এবং লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করতে পারব।
অবশেষে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি, আপনার এবং আপনাদের পরিবারের মঙ্গল কামনা করে আজকের জন্য শেষ করছি।”

তারিখ: ২০/০১/২৬