HOME বাংলা নিউজ বিশ্ব হাইপারটেনশন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত।
বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BMU)-এ একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (EDCL)-এর সম্মানিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সামাদ মৃধা। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্বব্যাপী উচ্চ রক্তচাপ বর্তমানে একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। World Health Organization (WHO)-এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২৪ সালে প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষ হৃদরোগজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন, যার মধ্যে প্রায় ৫২ শতাংশ মৃত্যুর জন্য উচ্চ রক্তচাপ দায়ী।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতি বছর বিশ্বে ১ কোটিরও বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন, যা সকল সংক্রামক রোগে মৃত্যুর সম্মিলিত সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এ থেকে স্পষ্ট যে, উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব কিন্তু অত্যন্ত ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি।
তিনি বলেন, “উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, লবণ গ্রহণ কমানো, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আমরা এই নীরব ঘাতককে প্রতিরোধ করতে পারি।”
তিনি সকলকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান এবং একটি সুস্থ, সচেতন সমাজ গঠনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)-এর “Health and Morbidity Status Survey-2025” অনুযায়ী, বাংলাদেশে শীর্ষ ১০টি রোগের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ প্রথম স্থানে রয়েছে—যা পরিস্থিতির গুরুত্বকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
বক্তারা উচ্চ রক্তচাপকে “নীরব ঘাতক” হিসেবে উল্লেখ করে এর ঝুঁকি, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক ব্যায়াম এবং জীবনধারায় ইতিবাচক পরিবর্তনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষজ্ঞ বক্তারা বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ আয়োজনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং সুস্থ জীবনযাপনের প্রতি আগ্রহ আরও জোরদার হয়।