শহীদ-আহত পরিবারের সদস্যদের হাতে ইডিসিএল এমডি আশরাফুজ্জামানের স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ৯ আগস্ট ২০২৬: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ১০ জনের পরিবারের সদস্যদের হাতে এসেনশিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানী লিমিটেডের (ইডিসিএল) চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গত ৮ আগস্ট ২০২৬ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শহীদ ও গুরুতর আহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে এসব নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। ইডিসিএলের মাননীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আঃ কাঃ মোঃ আশরাফুজামানের স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্র তাঁদের হাতে তুলে দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার আলোকে ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আঃ কাঃ মোঃ আশরাফুজামানের সরাসরি নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়োগের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইডিসিএল কর্তৃপক্ষ।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহতদের পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ইডিসিএল একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে।

নিয়োগপত্রপ্রাপ্ত ১০ জন

নিয়োগপত্রপ্রাপ্তরা হলেন—শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি, শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী, গুরুতর আহত মো. আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা. আরজু আক্তার।

আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী সকল মানুষের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও আশ্বাস দেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ইডিসিএলের মানবিক অঙ্গীকার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও গুরুতর আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ইডিসিএল পরিবারের সঙ্গে যুক্ত করতে পেরে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত সম্মানিত ও গর্বিত।

ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আঃ কাঃ মোঃ আশরাফুজ্জামানের সরাসরি নির্দেশনা, উদ্যোগ ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগসংক্রান্ত প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

ইডিসিএল মনে করে, দেশের মানুষের কল্যাণে আত্মত্যাগকারী শহীদ ও আহতদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁদের সম্মান, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের জন্য একটি স্থিতিশীল ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নির্মাণে সহায়ক হবে বলে আশা করছে ইডিসিএল।