একটি কোয়ারেন্টাইন রাতঃ কবি মুহাম্মাদ আব্দুল লতিফ।

একটি কোয়ারেন্টাইন রাতঃ মুহাম্মাদ আব্দুল লতিফ।
অনেক রাত হয়েছে

শুয়ে পরো, শরীর খারাপ করবে
খুব সাধারণ কিছু কথা,
কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলিতে প্রতিরাতেই বলো
হয়তো অসাধারণ করেই বলো
শুনতে ভালো লাগে
কখনো কখনো ভালো না লাগার স্বাদ
ভুলে থাকতে চাই ইচ্ছা করেই
তাই বাধ্য ছেলের মত বিছানায় যাই,
ঘুমানোর চেষ্টায় এপাশ ওপাশ করি।
অদৃশ্য হও তুমি, অদৃশ্য কিন্তু দৃশ্যমান
তোমার অস্তিত্ব টের পাই একটু দূরেই,
পাশের ঘরে তোমার জেগে থাকা
ঘুম নামক শত্রুকে বশে আনতে
যন্ত্রণার প্রধান কারণ হয়ে দেখা দেয়,
সঙ্গী হিসাবে সঙ্গ পায় ঘুমের ঔষধ
একসময় হিসাব মিলাতে মিলাতে
ক্লান্ত দেহে ডুবে যেতে চেষ্টা করি
এক অনিশ্চয়তায়,
কখনো সফল হই,
আবার কখনো পরাজিত অনিদ্রার কাছে।
ঠিক সে সময় আমাকে পাহারা দেয়
চৌদ্দ ফুট বাই চৌদ্দ ফুট ঘর,
দেয়ালে টাঙ্গানো কাললেখক,
আর জালে আটকে থাকা এক হালি মাকড়সা।
তুমি প্রতিদিনই অপেক্ষা কর, খুব কাছেই
চলে যাবার আগের অপেক্ষা
একটা মাত্র দেয়াল মাঝখানে
কিন্তু পথ যোজন যোজন দূরের
তারপর, শেষকথার রেশ টানতে টানতেই
দরজার স্পর্শহীন হও তুমি
আমি আর দেয়ালে টাঙ্গানো রবী বাবু
প্রত্যক্ষ করি তোমার কাল্পনিক প্রস্থান দৃশ্যের
আটকে রাখার বায়না করিনা একটুও
তোমার মত চলে যাও তুমি,
আসলে চলে যেতে বাধ্য হও,
আটকে রাখার সকল বন্ধন পরাজিত হয়।
অদৃশ্য জীবানুর কাছে পরাজিত
তুমি, আমি, তোমার প্রাণহীন রবী ঠাকুর- সবাই
এভাবে নিদ্রাহীন চলে যায় রাতের পর রাত
আমি আর দেয়ালের নিস্প্রাণ কবি
দু’জন মিলে শব্দহীন গেয়ে যাই
‘আজি যে রজনী যায় ফিরাইব তায় কেমনে।
নয়নের জল ঝরিছে বিফল নয়নে’।।
জলহীন শুকনো জল দেখা হয়না তোমার
হয়তো তা দেখা হয়না আমারও।
(করোনা আক্রান্ত কাল্পনিক চরিত্রের অতিক্রান্ত রাতের অভিব্যক্তি)