কবি ও সাহিত্যিক শাহিনা খাতুন এর ধারাবাহিক লেখা ভুল এর ৪২তম পর্ব।

ভুল- ৪২ঃ শাহিনা খাতুন।

পরদিন পাড়ার ছেলেপেলেরা খালিশপুর ক্লাবে গিয়ে জড়ো হয়ে অরবিন্দ স্যারকে ডেকে নিয়ে আসে। প্রথমে ঠিক করতে হবে কি নাটক হবে?
ঊনিশজন বিভিন্ন বয়সের ছেলেমেয়েরা হাজির হয়ে রেবাকে ডেকে নিয়ে আসে। প্রথমে দশম শ্রেণীর ছাত্র সোহেল অরবিন্দ স্যারের অনুমতি নিয়ে বলে স্যার “সানুদা চলে যাবার পর আমাদের আনন্দ সব চলে গেছে। আমরা একটু আনন্দ ফিরে পেতে চাই। সে উদ্দ্যেশ্যে আজ আমরা একত্র হয়েছি। আমরা অনেকদিন কোন নাটিক করিনি। আমাদের ইচ্ছা আমরা একটা নাটক করবো, তার নেতৃত্ত্ব দেবেন আপনি। ” বিজন একাদশ শ্রেণীতে পড়ে সে বলে নাটকই হতে হবে এমন কি? আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে পারি তাতে গান বাজনা, নাচ, কৌতুক অভিনয়, আবৃতি অনেককিছু থাকতে পারে। রোজ তেরেজাও একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী “সে বলে আমরা কবিগানের আসর করতে পারি। অনেকে কবিগান শোনেনি। এটা বাংলার ঐতিহ্য। সবার ধারনা থাকা দরকার।” রনি নবম শ্রেণীতে পড়ে “সে বলে অনেকদিন যাত্রা দেখিনি। আমার জানামতে খুব ভাল একটা যাত্রাদল আছে। আমরা যাত্রাপালা দেখতে পারি।” রবিন দশম শ্রেণীর ছাত্র সে একটু রেগে বলে এ রকম কথা ছিলনা। আমরা নাটক করবো, আমরা অভিনয় করবো। আমরাই খেটেখুটে সব কাজ করে আনন্দ করবো এরকম কথা ছিল। এখন এত কথা কেন আসছে? ” তখন অরবিন্দ স্যার হাত উচু করে সবাইকে থামিয়ে বলেন “তোমরা থামো। আমরা যখন অনেকে মিলেভ একসাথে কাজ করি তখন অনেকের অনেক রকম মত থাকতে পারে। আমরা প্রথমে শুনবো তারপর দেখবো বেশীরভাগ লোক কী চায়, সে অনুযায়ী আমরা সিদ্ধান্ত নেবো। এটা হলো গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। আজ আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাইকে এ পদ্ধতি শিখাবো। এরপর আমার ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের জীবনের সকল স্তরে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত নেবে। কি বলো তোমরা? ” সকলে সমস্বরে উত্তর দেয় জ্বী স্যার আপনার কথাই ঠিক।

অরবিন্দ স্যার- আর কারও কোন প্রস্তাব থাকলে বলতে পার।
কয়েকজন একসাথে বলে না স্যার আর নতুন কোন প্রস্তাব নেই।
অরবিন্দ স্যার- আমরা ছোটদের কথা শুনিনি। অনেক সময় ছোটদের মাথায় অনেক ভাল প্লান থাকে। আমরা সেটা মূল্যায়ন করিনা। কিন্তু আমরা সেটাও করবোনা। আমরা সবাইকে সমান গুরুত্ত্ব দেবো। এখানে যারা ছোট আছ তোমাদের মধ্যে কেউ একজন বল।
সবচেয়ে ছোট যে সভায় উপস্থিত ছিল তার নাম রিংকু সে বললো স্যার” আমরা নাটক মঞ্চস্থ করতে পারি। তবে নাটক শুরু হওয়ার আগে একঘন্টার কালচারাল ফাংশন হতে পারে। আমি একজায়গায় এরকম হতে রেখেছি। নাটক একটু রাত হলে শুরু করলো আর তার আগে সুন্দর কালচারাল ফাংশন হলো। ”
অনেকেই বলে উঠলো হ্যা স্যার আমরা এরকম অনুষ্ঠান করতে পারি।
অরবিন্দ স্যার- রেবা তোমার কোন মতামত থাকলে বল।
রেবা- স্যার ওরা প্রথমে যখন আমার কাছে প্রস্তাব নিয়ে গেছে তখন কিন্তু নাটক করবে বলেছিল। এখন আপনি মেজরিটির মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত দিলে ভালো হবে।
অরবিন্দ স্যার- ঠিক আছে আমি প্রস্তাব করবো তোমরা হাত তুলে সায় দেবে। প্রথম প্রস্তাব নাটক। তোমরা কে কে নাটক মঞ্চস্থ হোক চাও হাত তোল। কুড়িজনের মধ্যে চৌদ্দজন হাত উচু করলো।
অরবিন্দ স্যার- তাহলে আর বাকি প্রস্তাব করার দরকার নেই। তবে রিংকুর প্রস্তাবমতে নাটক হবে তার সাথে একটু কালচারাল অনুষ্ঠান হতে পারে। এতে তোমরা কয়জন রাজী আছ?
একথার পর সকলে হাত উচু করে বললো স্যার তাই হোক আমরা সবাই একমত।
অরবিন্দ স্যার- ঠিক আছে তাহলে সিদ্ধান্ত হলো আমরা নাটক করবো তবে নাটোকের আগে কালচারাল অনুষ্ঠান হবে। তোমরা কি লক্ষ্য করেছো যে সবচেয়ে ছোট যে আমরা তার প্রস্তাব গ্রহণ করেছি। আজকের এই সভা থেকে আমরা দূটো জিনিষ শিখলাম। একনম্বর হচ্ছে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া আর দুই নম্বর হচ্ছে ছোটদের মতামতের সমান গুরুত্ত্ব দেওয়া। এখন আমরা দায়িত্ব বন্টন করবো। আমরা অনুষ্ঠানকে মোটাদাগে দুইভাগে ভাগ করবো। একটাভাগে কালচারাল অনুষ্ঠান আর একভাগে নাটক।

তারিখঃ ০৯/১০/১৯