কবি শাহিনা খাতুন এর ধারাবাহিক লেখা “ভুল- ৩৯” তম পর্ব।

ভুল- ৩৯ঃ শাহিনা খাতুন।

বিডিনিউজ এক্সপ্রেসঃ  রেবা তরির মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। ওর কান্না দেখে নিজের চোখের পানি আর আটকে রাখতে পারেনা। সে ভেবেছিল সানুর কথা মনে করে সে আর কাঁদবেনা কিন্তু তরির অবস্থা দেখে আর ওর কথা শুনে সেও কাঁদতে থাকে। তাইতো সব এলোমেলো হয়ে গেলো। অথচ সব কত সুন্দর হওয়ার কথা ছিল। তরি আর রেবা বেশ কিছুক্ষণ দোকানের বেঞ্চিতে বসে কাঁদে। দোকানদার দু একবার এসে ওদের দেখে যায় কিন্তু কৌতুহল চেপে রাখে কোন প্রশ্ন করেনা। তবে একবার এসে জিজ্ঞেস করে কী হয়েছে মা? রেবা এ প্রশ্নের কোন উত্তর দেয়না তরিকে নিয়ে ভাবতে থাকে। কী করবে সে? তরিকে সান্তনা দেওয়ার মত কোন কথা তার জানা আছে কিনা? কিছুক্ষণ পর তরি বলে তুমি মাঝে মাঝে আমার সাথে কথা বল রেবা আপু। তাহলে হয়তো আমি একটু ভাল থাকবো। আর একটা কথা আমি তোমাকে বলবো যদি তুমি বিশ্বাস কর। রেবা তরিকে বিশ্বাস করবে বলে কথা দেয়।
তরি- আমি দাদাকে খুঁজে পেয়েছি। তুমি আমাকে হয়তো পাগল ভাবতে পার। কিন্তু আমি সত্যি বলছি আমি দাদাকে খুঁজে পেয়েছি আর প্রায় তার কাছাকাছি থাকি। যদি তুমি আমাকে বিশ্বাস কর তবে আমি তোমায় সব বলবো।
রেবা- কেন আজই বল।
তরি – না আজ সময় নেই। আমি একটা কাজ শুরু করেছি। আমার কাজের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। নেছার চাচা অসুস্থ্য। এতক্ষণ তোমার সাথে থাকলাম সে হয়তো চিন্তায় পড়ে গেছে। আর একদিন কাজ থেকে ছুটি নিবো আর তোমার সাথে সব কথা বলবো। অথবা তুমি একদিন আমার কাজের জায়গায় চলে আসতে পার, আমি তোমাকে অনেক দুরে নিয়ে যাবো।
রেবা – তুই কি চাকরী করতেছিস? পড়ালেখা ছেড়ে দিয়েছিস?
তরি – হ্যা চাকরী নিয়েছি। পড়ালেখা আর হবেনা আপু।
রেবা- তোর দাদার আত্মা কষ্ট পাবে তরি এটা কিন্তু ঠিক করছিসনা।
তরি- সানুদাদা মরে গিয়ে বেচে গেছে। তার আর কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। এখন কষ্ট পাচ্ছি আমি উর্মি আর আমিনুল। তবে ওরা ছোট বলে বুঝতে পারছেনা।
রেবা- আমার কথা শুনবিনা?
তরি- তাহলে চল আমাদের বাসায় গিয়ে আমাদের বড়বোন হয়ে থাক। আমরা তিন ভাইবোন তোমার কথার বাইরে যাবোনা। পারবে? পারবেনা। কারন এ সমাজে সেটা হয়না। আর আমার বাবামায়ের কাছে গিয়ে তুমি থাকতে পারবেনা। মন খারাপ করোনা। দুঃখ পেওনা। হয়ত একদিন শুনবে তরি কোথাও মরে পড়ে আছে।
রেবা- তুই সব জেনে বুঝে এরকম পাগলামি করবি? আমি কিভাবে সামলাবো? তোর দাদা শেষ চিঠিতে লিখে গেছে আমি যেন তোদের দেখে রাখি।আমিতো ফেল করলাম। তুই আমাকে ফেল করিয়ে দিলি।
তরি- সরি আপু আমার কিছু করার নেই। আমি দাদার মত এত ভাল ছেলে নই। ধরে নাও আমি উচ্ছ্বন্যে গেছি। এখন উঠবো। তুমি আমার মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করে দাও।
রেবা- আর একবার ভেবে দেখ ভাই। আমাকে একটু সময় দে। আমি তোদের সবার অভিভাবক হয়ে উঠতে পারবো। এটলিস্ট পড়ালেখা শেষ করে একটা চাকরী নেওয়ারর সময়টুকু আমাকে দে। দেখিস আমি সব পাল্টে দেবো।
তরি- তুমি সানুদাদাকে নিয়ে কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করে নিতে পারতে। এতটুকু সাহস কেন করলেনা?
রেবা- তোর দাদা এত ভাল মানুষ ছিল যে আমি তার সিদ্ধান্তের উপর কথা বলিনি। এভাবে সব শেষ হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি। আসলে তোর দাদা আমার সাথে কথা না বলে এতবড় সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবে এটা আমি ধারনা করিনি বিশ্বাস কর।
তরি চোখের পানি লুকিয়ে রেবার পা ছুঁয়ে সালাম করে বিদায় জানিয়ে চলে গেল। রেবার মনটা বিষাদে ভরে গেল। আজ তার মনে হচ্ছে সানুর মত তরিও হারিয়ে যাবে। আসলে তরি আমিনুল উর্মি ওরা কবে যে শশী আর শিমুর স্থান দখল করে নিয়েছে সে নিজেই জানেনা। গভীর আশংকা আর মন খারাপ নিয়ে রেবা বাসায় ফিরে আসে। কি করবে? কাকে বলবে? কিভাবে বলবে? বুঝতে পারছেনা। তবে সে তার বাবাকে বলবে এ সিদ্ধান্ত নেয়। আর হুমায়ুন দাদাকে বলবে কিনা ভাবতে থাকে। হুমায়ুন দাদা অহংকারী মানুষ। হয়তো কোন লাভ হবেনা বরং আরও সানুর পরিবারের সম্মানহানী হবে। বাসায় ফিরে গোসল খাওয়া দাওয়া সেরে শুয়ে পড়ে। ওর মা ভাবে মেয়ের মনে হয় শরীর খারাপ করেছে। কাছে গিয়ে কপালে হাত দিয়ে জ্বর আছে কিনা কপালে হাত দিয়ে অনুভব করার চেষ্টা করে। না গায়েতো জ্বর নেই। জিজ্ঞেস করে কিরে রেবা তোর কি মন খারাপ?
রেবা- হ্যা মা আমার মনটা খুব খারাপ হয়েছে। একটা ভয়াবহ ব্যাপার ঘটতে চলেছে। আজ আব্বা অফিস থেকে ফিরে আসার পর তাকে বলবো।
রেবার মা- আমাকে বল।
রেবা- তোমাদের দুজনকে একসাথে বলবো।

তারিখঃ ০৫/০৯/১৯