বিসিএস এর মাধ্যমে ফার্মাসিস্টদের সকল হাসপাতালে নিয়োগ দেয়া হোক।

বিডিনিউজ এক্সপ্রেসঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদের নির্দেশনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই খাতটিতে ফার্মাসিস্টদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। গত ১৬ এপ্রিল এইইডিসিআর এর ব্রিফিং এ ফার্মাসিস্টদের ও ফার্মাসিউটিক্যাল এর অবদান এর কথা স্বীকার করে ফার্মাসিস্টদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ফার্মাসিস্টদের প্রতি তাদের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাগবে আশাকরি। তিনি অনুপ্রাণিত করেছেন ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানির সকল ম্যানেজিং ডিরেক্টর, মালিক, ফার্মাসিস্টসহ সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উপেক্ষা করে ফার্মাসিস্টগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের ওষুধ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন দেশের এই ক্রান্তিকালে। আর আজকের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বীকৃতিতে সবাই অনেক উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত।

এখনই সময় সরকারের ফার্মাসিস্ট ও ফার্মাসিউটিক্যাল নিয়ে চিন্তা করার। স্বাস্থ্য খাতকে পরিপূর্ণ করার। হাসপাতালে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট না থাকায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত অপূর্ণ। ডাক্তারগণও আজ ক্লান্ত। কারণ ফার্মাসিস্ট পারে হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করে চিকিৎসকদের সহযোগিতা করতে।

উন্নত বিশ্বের মতো ডাক্তার সঠিক রোগ নির্ণয় করবে আর ফার্মাসিস্টগণ সঠিক ওষুধ নিরাপদভাবে প্রয়োগ করতে সহযোগিতা করবে। তবেই বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। বন্ধ হবে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত ওষুধের ব্যবহার। রোগী জানবে কোন ওষুধ কখন খেতে হয়, ওষুধ কিভাবে কাজ করে, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সঠিক ওষুধের সঠিক মাত্রার ব্যবহার। তখন ডাক্তারগণ রোগীর রোগ নির্ণয়ে অধিক মনোযোগী হতে পারবে। সুরক্ষিত হবে স্বাস্থ্যসেবার মান।

বাংলাদেশের মানুষের আস্থা ফিরে আসবে চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার উপচে পরা ভিড় কমে যাবে। সমৃদ্ধ হবে দেশের অর্থনীতি। বাংলাদেশ যেমন ওষুধ রপ্তানিতে এগিয়ে তেমনি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে বিদেশি রোগীদের বাংলাদেশে চিকিৎসা নিতে আসতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে নিরাপদ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

বিসিএস এর মাধ্যমে সকল হাসপাতালে নিয়োগ এবং সকল প্রাইভেট হাসপাতালে ফার্মাসিস্ট নিয়োগ বাধ্যতামূলক করে দেওয়া যেতে পারে। সরকারি হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে দেশের হত দরিদ্র থেকে দরিদ্র ও সকল স্তরের মানুষের মাঝে বিনামূলে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই এসেনসিয়াল ড্রাগস কম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) ওষুধ উৎপাদন আরো বাড়ানোর জন্য সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো যেতে পারে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র বিহীন ও অপ্রয়োজনীয় ওষুধ বিক্রি বন্ধের জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কমিউনিটিভিত্তিক ফার্মেসি (মডেল ফার্মেসি)। যেখানে একজন রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক। যদিও ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন পাওয়ার পরে অনেক মডেল ফার্মেসিতে ফার্মাসিস্ট রাখা হয় না। এ ব্যাপারে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আজ দেশের এই মহামারির মধ্যেও অনেক ফার্মাসিস্টগণ ভলান্টিয়ার হিসেবে হসপিটাল ফার্মাসিস্ট হয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করার জন্য বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরামের কাছে আগ্রহ জানিয়েছেন। ফার্মাসিস্টদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রদান করে তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে কাজে লাগানো যেতে পারে।

লেখক : মো. আজিবুর রহমান (এম ফার্ম, এমবিএ, পিজিডি এইএম)।

তারিখঃ ১৮/০৪/২০