ভুল- ৪৩ঃ লিখেছেন কবি শাহিনা খাতুন।
পরদিন বিকেল পাঁচটায় আবারো মিটিং এ বসার সিদ্ধান্ত ছিল। সে মোতাবেক একে একে সবাই হাজির হয়। অরবিন্দ স্যার এসে তখনো পৌঁছেনি।ওদের মধ্যে খুব ভাল গান গাইতে জানে বিজন। রিংকুও গায় তবে বিজনেরর মত অত ভালো নয়। উপস্থিত সকলে মিলে বিজনকে গান গাওয়ার জন্য অনুরোধ জানায়। বিজন গান ধরে” মোর প্রিয়া হবে এসো রানী দেবো খোঁপায় তারার ফুল
কর্ণে দোলাবো তৃতীয়া তিথির চৈতি চাঁদের দুল”
রনি টেবিল বাজিয়ে তাল দেয়। অনেকদিন পর ওরা আনন্দে মেতে ওঠে। একটুপর রেবা এসে পৌছালে ওরা গান বন্ধ করে দেয়। রেবা বলে আমাকে দেখে যেহেতু গান বন্ধ করেছিস তাই আর একটা গান করতে হবে। আচ্ছা বলে বিজন আবার গান ধরে “বাঁশি শুনে আর কাজ নাই ওসে ডাকাতিয়া বাঁশি। ” গান শেষ না হতে অরবিন্দ স্যার এসে হাজির। বলে গানটা শেষ কর। বিজন গান শেষ করলে আলোচনা শুরু হয়। অরবিন্দ স্যার বলে আগে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো কোন নাটক করবো? এ সিদ্ধান্ত হওয়ার পর কে কি ভূমিকায় অভিনয় করবে এসব ঠিক করে দেবো। আর একটি অর্থ কমিটি করে দেবো তারা টাকা যোগাড় করবে এবং খরচ করে হিসাব রাখবে। আর কালচারাল ফাংশন এর জন্য আর একটা কমিটি হবে তারা কালচারাল অনুষ্ঠান তৈরি করে আমাদের দেখাবে। যদি আমাদের পছন্দ হয় তাহলে সেমত অনুষ্ঠান হবে। নচেৎ আমাদের কোন অবজারভারভেশন থাকলে আমরা সেটা বলবো ওরা পরিবর্তন করে পুনরায় দেখাবে। তবে এটা কিন্তু যত সহজ ভাবতেছিস তোরা অত সহজ নয়। সকলে দায়িত্ববান নাহলে অনুষ্ঠান সুন্দর হয়না। আগেভাগে ভেবে দেখ বেশি পরিশ্রম করতে প্রস্তুত আছিস কিনা।
রেবা- স্যার আপনি চিন্তা করবেননা। আমি ওদের সাথে থাকবো।
অরবিন্দ স্যার- হ্যা তুই যদি বলিস তুই প্রত্যেক কাজের দেখভাল করবি তাহলে আমরা আজ কমিটি করবো আর কি নাটক করবো সে সিদ্ধান্ত নেবো।
রেবা- স্যার নাটক পরিচালনার দায়িত্ব আপনাকে নিতে হবে।
অরবিন্দ স্যার- কেন এ দায়িত্ব তোদের আজিজ স্যারকে দেই?
রেবাসহ অনেকে একসাথে বলে ওঠে না স্যার আপনি পরিচালনা করবেন। আজিজ স্যারকে আপনি অন্য দায়িত্ব দেন আমাদের আপত্তি নেই। অথবা কাজ করার সময় তাকে সাথে নিয়েন কিন্তু পুরোপুরি দায়িত্ব দিয়েননা।
অরবিন্দ স্যার- কেন তোরা এভাবে বলছিস কেন?
রেবা- স্যার ওরা ছোট আপনাকে বলতে সাহস পাচ্ছেনা। আপনি ভাল করে জানেন স্যার কিন্তু ওনার পছন্দমত লোকজনদের দিয়ে কাজ করাবে। প্রকৃত যারা ভাল অভিনয় করে তারা আসতে পারবেনা। আর একটা ঘটনা ঘটবে যা আমি এখানে সবার সামনে বলতে পারছিনা।
অরবিন্দ স্যার- আচ্ছা আচ্ছা বুঝতে পারছি। তাহলে আমরা প্রথমে ঠিক করি আমরা কি নাটক করবো। ঐতিহাসিক নাকি সামাজিক নাটক?
রিংকু – স্যার অবশ্যই ঐতিহাসিক নাটক।
আলম- খুব ভাল সামাজিক নাটক করা যেতে পারে।
লতা- সার আপনি যেটা বলবেন সেটা হবে।
রেবা- হ্যা স্যার আপনি সিদ্ধান্ত দেন।
অরবিন্দ স্যার- কেন তোদের কি শিখালাম এর মধ্যে ভুলে গেলি?
বিজন – না স্যার ভুলিনি। গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। ভোটাভুটি হবে।
অরবিন্দ স্যার- একজাক্টলি। কে কে চাস যে ঐতিহাসিক নাটক হোক তারা হাত তোল।
উপস্থিত ছাব্বিশজনের মধ্যে ঊনিশজন হাত তুললো।
অরবিন্দ স্যার- ঠিক আছে আমরা সিদ্ধান্ত পেয়ে গেছি ঐতিহাসিক নাটক হবে। এবার আমি ঐতিহাসিক বাংলা নাটোকের নাম বলছি তোরা সিদ্ধান্ত দিবি কোনটা করবি।
অনেকে একসাথে বলে ঠিক আছে স্যার।
অরবিন্দ স্যার- মাইকেল মধুসূদন দত্তের কৃষ্ণকুমারী, গিরিশচন্দ্র সহ কয়েকজন সিরাজউদ্দৌলা নাটক লিখেছেন। ইব্রাহিম পাশার আছে কামাল পাশা, দ্বিজেন্দ্রলালসহ দুই একজন শাজাহান নাটিক লিখেছেন।
রবিন – স্যার শাজাহান করা যায়।
অরবিন্দ স্যার- আমাকে আগে শেষ করতে দে। মহেন্দ্র দত্তের আছে টিপু সুলতান। মুনিব চৌধুরীর আছে রক্তান্ত প্রান্তর, শাহাদাৎ হোসেনের আছে সরফরাজ খাঁ। ক্ষিরোদ প্রাসাদ বিদ্যাবিনোদ এর আছে বাংলার মসনদ। এই মুহুর্তে এ কয়টার কথা মনে পড়ছে। তোদের যদি এ ছাড়া অন্য কোন নাটোকের নাম মনে পড়ে বলতে পারিস। এর মধ্যে রুমে এসে ঢুকে সানুর বন্ধু সমির। সমির বলে স্যার শুনলাম নাটক মঞ্চস্থ হবে এবং প্রস্তুতি মিটিং চলছে তাই না এসে পারলামনা।
অরবিন্দ স্যার- হ্যা এসে খুব ভাল করেছিস। আমিও তোদের খবর দিতাম। রাজা, প্রতাপ, আনিস ওদের নিয়ে প্রতিদিন বিকেলে চলে আসবি। অনেক কাজ। তোরা সংগে না থাকলে ওরা পারবেনা। লিপি, বিনা, শিবানী ওদেরকেও ডেকে নিয়ে আসবি।
সমির – ঠিক আছে স্যার। কাল থেকে আপনি অনেককে পাবেন। তবে কি নাটক করবেন স্যার?
অরবিন্দ স্যার- না এখোনো ঠিক করিনি। ভাল সময় এসেছিস আমরা এখনই ঠিক করবো কোনটা করবো। তবে ঐতিহাসিক নাটক করবো এটা স্থির হয়েছে।
তারিখঃ ৩১/১০/১৯













