ভুল- ২৭ঃ শাহিনা খাতুন
রেবা আপুদের বাসার দরজায় এসে দরজা নক করলে রেবা আপুর মা এসে দরজা খুলে দেয় এবং কেমন আছে সবাই সেকথা জানতে চান।
তরি – ভাল আছি খালাম্মা। আপনারা কেমন আছেন? অনেকদিন ধরে আপনাদের খোঁজ খবর নেব নেব করে নেওয়া হয়না। আজ ভাবলাম আজ আর মিস করবোনা। কেমন আছেন খালাম্মা?
রেবার মা- ভাল আছি বাবা। তোমরা কেমন আছ? উর্মি আমিনুল তোমার মা বাবা কেমন আছেন?
তরি – ওরা ভাল আছে। তবে আপনিতো জানেন উর্মি বেশী মায়াশীল। ও এখনো প্রতিদিন দাদার জন্য কাঁদে।
রেবার মা- কি আর করা বাবা। মেনে নিতে হবে বাঁচতে হবে এটাই পৃথিবীর নিষ্ঠুর নিয়ম। ওকে মাঝে মধ্যে আমাদের বাসায় পাঠিয়ে দিয়ো। রেবার সাথে কথা বললে হয়তো একটু ভাল লাগতে পারে। তোমার মা বাবা কেমন আছেন? একটু কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে তরির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে।
আসলে সানুর মত ছেলেকে নিজেদের মিথ্যা অহংকারে হারিয়ে তারা কেমন আছে সেকথা জানতে ইচ্ছে করছে রেবার মায়ের।
তরি- খালাম্মা ওরা ভাল আছে। নিষ্ঠুর মানুষগুলো ভাল থাকে। আমরা বাকি তিনভাইবোন মারা গেলেও ওরা ভাল থাকবে। আল্লাহ যে কেন ওদের সন্তান দিল তা তিনিই ভাল জানেন। রেবা আপু কোথায়? অনেকদিন দেখা হয়নি। কথা বলতে ইচ্ছে করছিল।
রেবার মা- বাবা ও ভাল নেই। এখনো সারাক্ষণ কান্নাকাটি করে। প্রতিদিন বাক্স খুলে সানুর লেখা চিঠি পড়ে আর ওর দেওয়া জিনিষপত্র দেখে। আর কাঁদে। এক একটা চিঠি অনেকবার পড়ে। ওর চোখের পানিতে চিঠির অক্ষরগুলো মুছে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে মনে করি ওগুলো ফেলে দেই তাহলে বোধ হয় ওর কান্না কমবে। কিন্তু পারিনা কারন ওর দুঃখ আর বাড়াতে চাইনা। সবাই মিলে সবসময় বুঝাই যে মানুষ ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেনা। এটা ভাগ্যে ছিল। ওর আব্বা সবসময় আমাদের সাবধান করে যেন ওর মন খারাপ হয় এমন কোন কথা ওর সামনে না বলি।
তরির মনে হয় শ্রমিক বলে অবহেলা করে যার সন্তানকে পূত্রবধু করেনি তার বিবেক আর সন্তানস্নেহ কতখানি তা তার বাবা মায়ের কখনো জানাও হলোনা।
রেবার মা- বাবা বস তোমার জন্য একটু চা করে আনি। কেউ বাসায় নেই খানিক একলা বস। রেবাকে জোর করে আজ অনেকদিন পর কলেজে পাঠালাম। যদি লেখাপড়া শুরু করে তাহলে একটু ভাল থাকবে।
তরি – ঠিক আছে খালাম্মা আমি চা খাব। চা না খেয়ে বের হয়েছি। ভেবেছি আপনার হাতের চা খাব।
রেবার মা চায়ের পানি আরো আগেই চুলোয় চাপিয়ে দিয়েছিল। দুই তিন মিনিটের মধ্যে চা বিস্কিট এনে দিল। তরি বিস্কিট খেলোনা শুধু চা খেল।
রেবার মা- বাবা তুমি খুব শুকিয়ে গেছো। তোমার চোখের নীচে কালি জমেছে। চোখ কোটরে ঢুকে গেছে। তুমি কি অসুস্থ? একবার ডাক্তার দেখাও।
তরি- না খালাম্মা ভাল আছি। আর একদিন এসে রেবা আপুকে দেখে যাব, আজ চলি।
একথা বলে রেবাদের বাসা থেকে বেড়য়ে সোজা নদীর দিকে হাটতে শুরু করে। তার দুচোখ বেয়ে পানি পড়ছে। কেন বুঝতে পারছেনা। নিজেকে প্রশ্ন করছে এ পানি কেন?
তারিখঃ ২৩/০৮/১৯













