লেখকঃ ড. মো. আব্দুল মুহিত , সহযোগী অধ্যাপক, ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
দুসপ্তাহ আগেও আমার রক্তচাপ ছিল সিস্টোলিক ১২৯-১৩৪, ডায়াস্টোলিক ৮৮-৯০। অর্থাৎ বাংলাদেশের জাতীয় হাইপারটেনশন গাইডলাইন অনুযায়ী আমি প্রিহাইপারটেন্সিভ রোগী ছিলাম। সেজন্যে দেহ মনে ভালোই বিরূপ প্রভাব পরেছিল। মরহুম পিতা ও বড়ভাইয়ের উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগ ছিল। তাই নিজের শারীরিক পরিবর্তন আনাটা অত্যন্ত জরুরি হয়ে গিয়েছিল। গত কয়েকদিনের খাদ্যাভ্যাস এবং হাঁটাহাঁটির ফলে আজকে আবারো মেপে দেখলাম ১১২/৭৯। অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
ধারণা করা হয় সারা পৃথিবীতে প্রায় ১১৩ কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। প্রতি ৪ জন পুরুষে এবং প্রতি ৫ জন মহিলাতে ১ জন করে এই রোগে আক্রান্ত। আকস্মিক মৃত্যুতে প্রায় সর্বাগ্রে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ। আমাদের দেশের প্রায় ৪০% বয়স্ক মানুষের উচ্চ রক্তচাপ আছে। এটি একটি নীরব ঘাতক। বহু রোগের উৎস হলো উচ্চ রক্তচাপ। ব্রেইন, কিডনী, হার্টের রোগের প্রধান কারণ এটি। তাই, হেলাফেলা করা কোনভাবেই উচিত নয়। এ রোগের সমস্যা হলো যে, আপনি বুঝতেই পারবেন না কখন আপনি এ রোগে আক্রান্ত হলেন। কারণ কোন সাইন বা সিম্পটমস পাবেন না।
সাধারণত পারিবারিক ইতিহাস, বয়স ৬৫ উর্ধ্ব, ডায়াবেটিস/কিডনীর রোগ যাদের রয়েছে তারা উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন। এছাড়া দেহের ওজন যাদের বেশি, শারীরিক পরিশ্রম যাদের কম, স্ট্রেস, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, লবন বেশি খাওয়া, মদ বা সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস এই রোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে বয়স ৪০ হলেই আপনি ঝুঁকির মুখে আছেন। এছাড়াও ১৮-৩৯ বছরের মানুষও আজকাল প্রচুর আক্রান্ত হচ্ছে। তাই, এখনোই ডাক্তারের কাছে যান রক্তচাপ মাপার জন্য। প্রয়োজনে নিচের কিছু গাইডলাইন অনুসরণ করতেও পারেন।
প্রিহাইপারটেনশন অর্থাৎ ১৪০ এর কম সিস্টোলিক এবং ৯০ এর কম ডায়াস্টোলিক চাপ যাদের তাদের জন্য জীবনযাত্রার পরিবর্তনই হচ্ছে প্রথম সমাধান। এ জন্যে প্রথমেই আপনার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।
১। ওজন অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। যেভাবে পারেন আপনার ওজন কমাতে হবেই। আপনার শরীরের উচ্চতা এবং বয়স অনুযায়ী যে ওজন হওয়ার কথা (ইন্টারনেটে পাবেন) সেটাতে আসাই আপনার মূল লক্ষ্য হবে।
২। প্লেটে অতিরিক্ত কোন লবন নেবেন না। খাবারেও কম লবন দিতে বলবেন।
৩। কম চর্বিযুক্ত খাবার খাবেন। অন্যদিকে আঁশযুক্ত ফলমূল সবজি খেতে হবে বেশি।
৪। অন্তত ৩০ মিনিট ধরে হাঁটতে হবে। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে।
৫। স্ট্রেস কমাতে হবে। শরীরে মারাত্মক চাপ পড়ে অতিরিক্ত কোন কাজ করবেন না। মুক্ত বাতাসে হাঁটুন, গল্প করুন, শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম, বাগান করা ইত্যাদির মাধ্যমেও স্ট্রেস কমাতে পারবেন।
৬। পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। এজন্যে কোন ঘুমের ওষুধ না খেলেই ভালো। অনেকেই উচ্চ রক্তচাপ হলে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে যান। এটা ভালো নয়। এর চেয়ে স্বাভাবিক ঘুম হলে খুব ভালো হয়।
সর্বোপরি সবার জন্য সর্বদা মঙ্গল কামনা করবেন। কারও ক্ষতি করার মানসিকতা থাকলে তা অবশ্যই পরিহার করবেন। পজিটিভ চিন্তাভাবনা দেহেও পজিটিভ পরিবর্তন নিয়ে আসে। দৈনিক নিয়ম করে প্রার্থনা করবেন সৃষ্টিকর্তার কাছে। এভাবে ৩-৬ মাস চলবেন। কাজ না হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন এবং ওষুধ শুরু করতে হবে। আপনারা সবাই সুস্থ থাকুন। এই দোয়া করি।
তারিখঃ ২৯/০৭/২১













