লকডাউন কার্যকরে এবং পরিদর্শনে সড়কে ডিসি মানিকগঞ্জ “জানালেন তাহার বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার কথা”

বিডিনিউজ এক্সপ্রেসঃ মানিকগঞ্জ জেলার বিজ্ঞ জেলা প্রশাসক এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  মুহাম্মাদ আব্দুল লতিফ সরজমিনে লকডাউন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আজ জেলার বিভিন্ন সড়ক  পরিদর্শন করেন পাশাপাশি তিনি জেলার সাধারন মানুষের খোজ খবর নেন , কিন্তু এই ভয়াবহ করোনা মহামারিতে  সাধারন মানুষের অসচেতনতা দেখে তিনি বিস্মিত হন, বিস্ময় প্রকাশ করেন তাহার এক লেখনির মাধ্যমে। তিনি বিস্ময়কর  কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেন, যাহা নিচে তুলে ধরা হলো।
আপনি হাসবেন না কাঁদবেন সেই বিচার আপনার উপরই ছেড়ে দিলামঃ
চলমান কঠোর লকডাউনের সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে এই অতিমারীতে একসাথে কাজ করছে প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অন্যান্যরা। হাসপাতালে রোগী রাখার জায়গা হচ্ছেনা, রোগীদের অক্সিজেন দিতে ডাক্তার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। মোবাইল কোর্টে প্রতিদিন প্রত্যেক জেলায় লক্ষ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। দুইশোর অধিক প্রাণ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যাচ্ছে প্রতিদিন। আর এই সময় আপনি দেখলেন—-
ঘটনা-১। ছেলে/মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য একদল লোক মনের আনন্দে গাদাগাদি করে পাত্রী/পাত্র দেখতে যাচ্ছে।
ঘটনা-২। করোনা আক্রান্ত হয়ে এক ভদ্রলোক মারা গেছেন। আজ তার বাড়ীতে কুলখানির অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। সেই আয়োজনে ৫ মন দুধ দ্বারা দই আর দুইটি গরু জবাই করে ৪০০ জন মানুষের দাওয়াতের আয়োজন করা হয়েছে।
– ভদ্রলোকের ছেলে মেয়েরা হয়তো ভাবছে তাদের বাবা একা কেন মারা যাবে প্রতিবেশীর হক বলে কথা, বাবার সাথে কিছু লোককে কবরে পাঠানো যেতেই পারে। কিন্তু যারা দাওয়াত খেতে যাবেন তাদের জীবনের মায়া বলে কি কিছুই থাকার নেই!
এরকম একটি দুইটি নয়, প্রতিদিন শত শত ঘটনা ঘটাচ্ছে আমাদের এইসব বিবেকবান মানুষ। আর এই বিবেকবানদের ঘরে রাখার চেষ্টায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করছে উপরোল্লিখিত ব্যক্তিরা। সরকারের সমালোচনার আগে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে আমাদেরও কি কিছুটা ভাবতে নেই?
একটু ভাবুন, বিবেককে জিজ্ঞাসা করুণ, তারপরও যদি মন চায় অপ্রয়োজনে/বিভিন্ন অযুহাতে বাইরে আসবেন, আসুন।
তারিখঃ ৩০/০৭/২১