ভুল-৪৪ঃ লিখেছেন কবি শাহিনা খাতুন
বিডিনিউজ এক্সপ্রেসঃ অরবিন্দ স্যার – আমি যে নাটিকগলোর নাম বলেছি তা তোরা সমিরকে বল। ও শোনার পর সিদ্ধান্ত নেবো।
উপস্থিত কয়েকজন অরবিন্দ স্যার উল্লেখিত নাটকগুলোর নাম বলে।
সমির – স্যার সবগুলো নাটক বিখ্যাত আমরা এগুলোর যে কোন একটা করতে পারি। তবে স্যার এ মুহুর্তে আমার একটা নাটোকের কথা মনে পড়ছে সেটা কেমন হবে স্যার ভাবতে পারেন।
অরবিন্দ স্যার- বল কোন নাটক?
সমির – স্যার নাটোকের নাম উদয়নালা। নবাব সিরাজউদ্দৌলার মৃত্যুর পরের ঘটনা। স্যার আপনি অনুমতি দিলে আমি ওদেরকে উদয়নালা নাটোকের কাহিনীটা শুনাই।
উপস্থিত অনেকে বলে হ্যা সমিরদা আমরা শুনব।
অরবিন্দ স্যার- হ্যা বল আমরা শুনি।
সমির- ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে মীর জাফরের একটা চুক্তি ছিল। চুক্তি অনুযায়ী মীর জাফর বাংলা বিহার উরিষ্যার নবাব হবে আর ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পাবে অনেক পাউন্ড। সেইসাথে কলকাতায় বসবাসরত ইউরোপিয়ানরাও পাবে অনেক পাউন্ড। মীরজাফরের জামাতা ছিল মীর কাশিম আর ছেলে ছিল মিরন। মীর জাফরের ছেলে মিরন খুব বিলাসী জীবন যাপনে অভ্যস্থ ছিল। ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে চুক্তি অনুযায়ী অর্থ দিতে মীর জাফর ব্যর্থ হয়। মিরনের উপর বিরক্ত হয়ে ইংরেজরা তাকে মেরে ফেলে। অপরদিকে ওলন্দাজ জাহাজের আনাগোনা শুরু হয়। মীর জাফর ওলন্দাজদের সাথে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করে। তখন মীর জাফরকে ক্ষমতাচ্যুত করে তার জামাতা মীর কাশিমকে ক্ষমতায় বসায়। মীর কাশিম ছিলেন দেশ প্রেমিক। তিনি তার শশুর আর শালার অন্যায় আর শোষণ থেকে দেশকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। কৃষকদের ন্যায্য পাওনা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সৈনিকদের বেতন অনেকদিন ধরে বকেয়া ছিল। বকেয়া বেতনের দাবীতে সৈনিকদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেধে উঠতে থাকে। ফলে সেনাবাহিনীর মধ্যে অনেকগুলো বিপ্লব সংঘটিত হয়। মীর কাশিম এ অবস্থার উত্তরণ ঘটানোর চেষ্টা করেন। ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে চুক্তির কারনে ইংরেজ ব্যবসায়ীরা কর দিতোনা অথচ দেশী ব্যাবসায়ীদের ৪০% কর দিতে হতো। এ ব্যবস্থার নাম ছিল ‘দস্তক ‘
নবাব মীর কাশিম এ দস্তক ব্যবস্থা বাতিল করেন। কিন্তু ইংরেজরা মীর কাশিমের এ স্বাধীন মনোভাবে খুব অসন্তুষ্ট হলো। নবাব মীর কাশিম স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে সরিয়ে মুংগেরে স্থানান্তর করেন এবং আলাদা সেনাবাহিনী গঠন করেন। কারন অবধারিতভাবে তাকে ইংরেজদের সাথে অনেকগুলি যুদ্ধ করতে হয়েছিল। বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরও মীর কাশিমের বিরুদ্ধে ইংরেজদের সাথে অবস্থান নিয়েছিল। প্রথমে যুদ্ধ হয় কাটোয়া নামের জায়গায়। সেখানে সেনাবাহিনীর নিজেদের মধ্যে মতানৈক্য এর কারনে মীর কাশিম পরাজিত হন। তিনি বিপদ বুঝতে পেরে তার স্ত্রী সন্তানদের অন্যত্র পাঠিয়ে রাজমহলের কাছে উদয়নালা নামক স্থানে একটি বিরাট সৈন্যদল নিয়ে ঘাটি স্থাপন করেন। মীর কাশিমের সাথে ইংরেজদের অনেকগুলি যুদ্ধ হয়। বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিম পুরোপুরি পরাজিত হন। ইংরেজরা পুনরায় মীর জাফরকে ক্ষমতায় বসায়। আর পরাজিত মীর কাশিমকে খোঁড়া হাতির পিঠে করে নির্বাসনে পাঠানো হয়। এরপর মীর কাশিম অতি দরিদ্র জীবন যাপন করে মৃত্যুবরণ করেন। মূলত মীর কাশিমের মৃত্যুর সাথে সাথে বাংলার স্বাধীনতার শেষ প্রদ্বীপ নিভে যায়। এই ঘটনাকে নিয়ে সৃষ্টি উদয়নালা নাটক। স্যার আমার খুব পছন্দ এই নাটকটি আমরা করি।
অরবিন্দ স্যার- এটা খুব হ্রদয়গ্রাহী ইতিহাস। তবে আমি নাটকটি পড়িণি। আমরা সবার মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।
বিজন- সমিরদা বইটা কোথায় পাওয়া যাবে?
সমির – যদি সিদ্ধান্ত হয় আমরা এটাই করবো তাহলে জোগাড় করবো। আগে আমরা সিদ্ধান্ত নেই।
রেবা- স্যার তাহলে আমি বলে ফেলি কি কি নাটোকের নাম এসেছে। আমি আমার ডায়েরীতে লিখে ফেলেছি।
অরবিন্দ স্যার- হ্যা বল।
রেবা- কামাল পাশা, শাহজাহান, সিরাজউদ্দৌলা, টিপু সুলতান, রক্তান্ত প্রান্তর, সরফরাজ খাঁ, বাংলার মসনদ, কৃষ্ণকুমারী এবং উদয়নালা।
সমির – রবীন্দ্রনাথের আছে রক্তকরবী, প্রায়াশ্চিত্ত, বিসর্জন, চন্ডালিকা, চিত্রাংগদা কিরা যেতে পারে। কাজী নজরুল ইসলামের আছে আলেয়া, পুতুলের বিয়ে, ঝিলিমিলি। জসীম উদ্দিনের আছে বেদের মেয়ে, পল্লীবধূ, মধুমালা। রামনারায়নের আছে রত্নাবলী, ধর্মবিজয়। আকবর উদ্দিনের আছে সিন্ধু বিজয়, সুলতান মাহমুদ, নাদির শাহ। গিরিশচন্দ্র ঘোষের আছে সীতার বনবাস, প্রফুল্ল, সিরাজউদ্দৌলা।
রেবা- সমিরদা তুমি আমাদের আলোচনা পিছিয়ে দিওনা। কারন আমরা ক্যাটাগরি আগেই ঠিক করেছি।
অরবিন্দ স্যার- না না ঠিক আছে ওটা কোন বাইবেল না যে পরিবর্তন করা যাবেনা। এখানে তোদের মধ্যে সবচেয়ে সিনিয়র সমির। ওর কথা শুনে তোদের যদি সিদ্ধান্ত পাল্টাতে ইচ্ছা করে পাল্টাতে পারিস।
বিজন- তাহলে আর একবারও কি ভোট করবেন?
অরবিন্দ স্যার- কি বলিস তোরা?
অনেকেই বলে আপনি যেটা ভাল মনে করেন স্যার। রেবা মনে মনে সময় ক্ষেপণ এর জন্য বিরক্ত হয় কিন্তু কাউকে কিছু বুঝতে দেয়না।
তারিখঃ ০১/১১/১৯















